অংশ ১: প্রারম্ভিক
ধারা ২ — সংজ্ঞা
Income Tax Act, 2023 · Section 2
আইনের মূল পাঠ
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) “অবলোপিত মূল্য” অর্থ তৃতীয় তফসিলের অংশ ১ এ সংজ্ঞায়িত অবলোপিত মূল্য;
(২) “অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) এবং যুগ্ম কর কমিশনার (আপিল);
(৩) “অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার;
(৪) “অনিবাসী” অর্থ নিবাসী নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি;
(৫) “অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল” অর্থ দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ২ এর বিধান অনুসারে ১[কর কমিশনার] কর্তৃক অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল;
(৬) “অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল বা পেনশন তহবিল” অর্থ দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ১ এর বিধান অনুসারে ২[কর কমিশনার] কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বার্ধক্য তহবিল বা পেনশন তহবিল;
(৭) “অংশীদার” অর্থ Partnership Act, 1932 (Act No. IX of 1932) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো অংশীদার এবং লভ্যাংশ গ্রহণের মাধ্যমে অংশীদার হিসাবে বিবেচিত কোনো নাবালকও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮) “অংশীদারিত্ব” অর্থ Partnership Act, 1932 (Act No. IX of 1932) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে অংশীদারিত্ব;
(৯) “আইনগত প্রতিনিধি” অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর section 2 এর clause (11) এ সংজ্ঞায়িত কোনো আইনগত প্রতিনিধি;
(১০) “আত্মীয়” অর্থ কোনো ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাই, বোন বা বংশানুক্রমিক পূর্বসূরি বা উত্তরসূরি;
৩[***]
(১২) “আপিল ট্রাইব্যুনাল” অর্থ ধারা ১৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কর আপিল ট্রাইব্যুনাল;
(১৩) “আয়” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন কর আরোপণযোগ্য যেকোনো উৎস হইতে উদ্ভূত আয়, প্রাপ্তি, মুনাফা বা অর্জন;
(খ) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন উৎসে কর্তন বা সংগ্রহযোগ্য যেকোনো পরিমাণ অর্থ;
(গ) উপ-দফা (ক) তে উল্লিখিত আয়, মুনাফা বা অর্জন সংশ্লিষ্ট কোনো ৪[লোকসান];
(ঘ) চতুর্থ তফসিল এর ৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে ধার্যকৃত মিউচুয়াল ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক পরিচালিত কোনো বিমা ব্যবসা হইতে অর্জিত মুনাফা বা প্রাপ্তি;
(ঙ) এই আইনের যেকোনো বিধানের অধীন আয় হিসাবে গণ্য বা বিবেচিত যেকোনো অর্থ, অথবা বাংলাদেশে উদ্ভূত, সৃষ্ট বা প্রাপ্ত যেকোনো আয় অথবা উপচিত, উদ্ভূত, সৃষ্ট বা প্রাপ্ত হিসাবে বিবেচিত যেকোনো অর্থ;
(চ) কর আরোপ করা হয় এইরূপ যেকোনো পরিমাণ অর্থ, পরিশোধ বা লেনদেন;
৫[(ছ) কোনো পরিসম্পদের অর্জন যাহা—
অ) প্রাকৃতিক নহে;
আ) কোনো ব্যক্তির স্বীয় সৃষ্টি নহে;
ই) দায় বা বন্ধকের বিপরীতে অধিগ্রহণ (foreclosure) নহে;
ঈ) উত্তরাধিকার, উইল, অছিয়ত বা ট্রাস্টমূলে অর্জিত নহে;
(উ) বিনিময় বা ক্রয়মূলে অর্জিত নহে;]
৬[(১৪) “আয়কর” অর্থ এই আইনের অধীন আয়ের উপর আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য যেকোনো প্রকারের কর;]
(১৫) “আয়বর্ষ” অর্থ করবর্ষের অব্যবহিত পূর্ববর্তী অর্থবৎসর এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) কোনো ব্যবসা প্রথম শুরুর তারিখ হইতে পরবর্তী জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়;
(খ) নূতনভাবে কোনো আয়ের উদ্ভব ঘটিলে যে তারিখ হইতে তাহা শুরু হইয়াছে সেই তারিখ হইতে শুরু করিয়া পরবর্তী জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়;
(গ) জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া কোনো ব্যবসা সমাপ্তির তারিখ বা, ক্ষেত্রমত, অনিগমিত কোনো সংস্থার বিলুপ্তি বা কোনো কোম্পানির অবসানের তারিখ পর্যন্ত সময়;
(ঘ) জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া অনিগমিত কোনো সংস্থার অংশীদারের অবসর বা মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত সময়;
(ঙ) অনিগমিত কোনো সংস্থার অংশীদারের অবসর বা মৃত্যুর তারিখের অব্যবহিত পরবর্তী তারিখ হইতে উক্ত অনিগমিত সংস্থার অপর কোনো অংশীদারের অবসর বা মৃত্যুর তারিখ বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত অবসর বা মৃত্যুর তারিখের অব্যবহিত পরবর্তী জুন মাসের ৩০ তারিখ;
(চ) কোনো ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা উহার কোনো সহযোগী সংগঠনের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট বৎসরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া পরবর্তী ১২ (বারো) মাস:
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের বাহিরে নিগমিত কোনো মূল কোম্পানির সহযোগী কোম্পানি, সহযোগী কোম্পানির সহযোগী কোম্পানিসহ, বা উহার কোনো হোল্ডিং কোম্পানি বা উহার কোনো ব্রাঞ্চ, রিপ্রেজেন্টেটিভ বা লিয়াজোঁ অফিসের ক্ষেত্রে, যদি উক্তরূপ কোম্পানি উহার হিসাব মূল কোম্পানির হিসাবের সহিত সমন্বয় করিবার উদ্দেশ্যে ভিন্ন কোনো আয়বর্ষ অনুসরণ করিবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে, তাহা হইলে, উপকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, পৃথক কোনো ১২ (বারো) মাস আয়বর্ষ হিসাবে গণ্য হইতে পারিবে;
(১৬) “আয়ের উপর প্রদেয় কর” অর্থ এই আইনের অধীন আয়ের ভিত্তিতে আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য অর্থ;
(১৭) “উপকর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত উপকর কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি, এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং অফিসার, সহকারী কর কমিশনার, অতিরিক্ত সহকারী কর ৭[কমিশনারও] ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৮) “একীভূতকরণ (merger)” অর্থ অষ্টম তফসিলে সংজ্ঞায়িত একীভূতকরণ;
(১৯) ৮[“কমিশনার” অর্থ দফা (২৬ক) এ উল্লিখিত কর কমিশনার;]
(২০) “কমিশনার (আপিল)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত কর কমিশনার (আপিল);
৯[(২১) “কর” অর্থ আয়কর, এবং যেকোনো অতিরিক্ত কর, অতিরিক্ত মুনাফা কর, দণ্ড কর, সুপার কর, সারচার্জ, জরিমানা, সুদ, ফি এবং এই আইনের অধীন অন্যবিধ আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য অর্থও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
(২২) “করদাতা” অর্থ করারোপযোগ্য অর্থ উপার্জনকারী কোনো ব্যক্তি এবং নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন, যথা:
(ক) এই আইনের অধীন কোনো কর বা অন্য কোনো অর্থ পরিশোধে বাধ্য কোনো ব্যক্তি;
(খ) এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি-
(অ) যাহার আয়, অথবা যাহার আয়ের সহিত অন্য কোনো ব্যক্তির আয় নির্ধারণযোগ্য; অথবা
(আ) যাহার বা অপর ব্যক্তির প্রাপ্য পাওনা নির্ধারণের জন্য এই আইনের অধীন কার্যক্রম গৃহীত হইয়াছে;
(গ) যাহাকে ন্যূনতম কর পরিশোধ করিতে হইবে;
(ঘ) কোনো রিটার্ন, দলিল বা বিবরণী দাখিলে বা তথ্য প্রদানে বাধ্য কোনো ব্যক্তি;
(ঙ) কর নির্ধারণে ইচ্ছুক এবং রিটার্ন দাখিলকারী কোনো ব্যক্তি;
(চ) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন করদাতা বা খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য কোনো ব্যক্তি;
(ছ) যাহার ১০[ক্ষেত্রে] এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারা গ্রহণ করা হইয়াছে;
১১[(২২ক) “করদিবস” অর্থ করদাতা উদ্বুদ্ধকরণ, সম্মাননা প্রদান এবং কর শিক্ষণসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে সরকার কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় কর দিবস;]
১২[***]
(২৪) “করবর্ষ” অর্থ প্রত্যেক বৎসর জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া ১২ (বারো) মাস মেয়াদ এবং এই আইনের বিধানাবলির অধীন করবর্ষ হিসাবে গণ্য কোনো মেয়াদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
১৩[(২৫) “কর্মচারী” অর্থ যেকোনো কর্মচারী এবং নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(অ) কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে, উহার যেকোনো পরিচালক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পদবি নির্বিশেষে ব্যবস্থাপনার সহিত সম্পর্কিত কোনো দায়িত্ব পালন করেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি;
(আ) কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে, পদবি নির্বিশেষে ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনার সহিত সম্পর্কিত কোনো দায়িত্ব পালন করেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি;
(ই) এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি নিয়োগকারী হইতে বেতন প্রাপ্ত হন, নিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণাধীন ও নিয়োগকারীর নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালিত হন এবং নিয়োগকারী কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে কাজ করেন;
(ঈ) ধারা ৩২ অনুযায়ী চাকরি হইতে আয় প্রাপ্ত হয় এইরূপ সকল ব্যক্তি:
তবে শর্ত থাকে যে, চা-বাগানের কোনো শ্রমিক এবং দিনমজুর ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;]
(২৬) “কর অব্যাহতি” অর্থ কোনো ব্যক্তিকে নিম্নবর্ণিত সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই আইনের অধীন উদ্ভূত কোনো করদায় হইতে আংশিক বা সম্পূর্ণ মুক্ত করা, যথা:-
(ক) রেয়াত, অবকাশ, অব্যাহতি;
(খ) হ্রাসকৃত হারে কর পরিশোধ; বা
(গ) মোট আয় পরিগণনা হইতে কোনো আয় বাদ দেয়া;
১৪[(২৬ক) “কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত এবং ধারা ৫ এর অধীন নিযুক্ত বা পদায়িত কর কমিশনার, মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) ১৫[, মহাপরিচালক (পরিদর্শন), কর কমিশনার (বৃহৎ করদাতা ইউনিট), কর কমিশনার (আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট), কর কমিশনার (উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট) ও কর কমিশনার (ই-ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা ইউনিট);]
১৬[(২৬খ) “কর নির্ধারণ” অর্থ এই আইনের অধীন যেকোনো প্রকারের আয় ও কর নির্ধারণ, এবং পুনঃআয় ও পুনঃকর নির্ধারণ, অতিরিক্ত আয় ও অতিরিক্ত কর নির্ধারণ, অধিকতর আয় ও অধিকতর কর নির্ধারণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;]]
(২৭) “করমুক্ত সীমা” অর্থ মোট আয়ের কোনো সীমা যাহা শূন্য করহার বিশিষ্ট;
(২৮) “করারোপিত লভ্যাংশ” অর্থ সেই লভ্যাংশ আয় যাহার উপর ইতোমধ্যে এই আইনের অধীন আয়কর পরিশোধ করা হইয়াছে;
(২৯) “কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট” অর্থ কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস্ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৭০ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট;
(৩০) “কারিগরি সেবার ফি” অর্থ ব্যবস্থাপনা, কারিগরি বা পরামর্শক সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিদান, এককালীন প্রাপ্ত প্রতিদানসহ, এবং কোনো কারিগরি বা অন্য কোনো পেশাজীবীর সেবাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(ক) প্রতিদান গ্রহীতা কর্তৃক গৃহীত কোনো নির্মাণ কার্য, যন্ত্রাদি জোড়া প্রদানের কার্য, খনি বিষয়ক কার্য বা এইরূপ বিষয় সংক্রান্ত প্রকল্প হইতে প্রাপ্য প্রতিদান; অথবা
(খ) প্রতিদান গ্রহীতার “চাকরি হইতে আয়” আয় হিসাবে শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য কোনো প্রতিদান;
১৭[(৩০ক) “কাঁচামাল” অর্থ এইরূপ কোনো দ্রব্য, উপাদান বা সামগ্রী, যাহা কোনো পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রস্তুতকরণ বা সংযোজন কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে ব্যবহৃত হইয়া সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভোগ (consumed), রূপান্তরিত অথবা চূড়ান্ত পণ্যে পরিণত হয়;]
১৮[(৩১) “কোম্পানি” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো কোম্পানি, এবং নিম্নবর্ণিত সত্তাসমূহও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের লিয়াজোঁ অফিস বা রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস বা ব্রাঞ্চ অফিস বা স্থায়ী স্থাপনা;
(খ) বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোনো দেশের আইন দ্বারা বা আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো সত্তা;
(গ) ব্যাংকিং, বিমা, লিজিং বা ফাইন্যান্স কার্যক্রমে নিয়োজিত যেকোনো প্রতিষ্ঠান;
(ঘ) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির সহিত নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান;
(ঙ) কোনো ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, কৃত্রিমসত্তার কোনো অংশীদার বা উহা গঠনে অংশগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি (person) যদি কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) অনুযায়ী কোম্পানি হইয়া থাকে;
(চ) ব্যবসায়িক কার্যক্রম রহিয়াছে এইরূপ যেকোনো রাষ্ট্রায়ত্ত (State Owned)-প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, কর্পোরেশন, বোর্ড, সংবিধিবদ্ধ বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ;
(ছ) কোনো আইন দ্বারা বা আইনের অধীন নিগমিত (incorporated) নহে, এইরূপ কোনো বিদেশি সংঘ বা সংস্থা যাহা, বোর্ড কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে কোম্পানি হিসাবে ঘোষিত;]
(৩২) “খেলাপি করদাতা” অর্থ-
(ক) কোনো ব্যক্তি যিনি এই আইনানুযায়ী কোনো কর পরিশোধে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা
(খ) কোনো ব্যক্তি যিনি এই আইনানুযায়ী খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইয়াছেন;
(৩৩) “গবেষণা ও উন্নয়ন” অর্থ প্রণালিবদ্ধ (systematic), অনুসন্ধানী (investigative) এবং পরীক্ষামূলক (experimental) অধ্যয়ন যাহা-
(ক) অভিনব অথবা কারিগরি ঝুঁকি সংবলিত হইতে হইবে;
(খ) বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি জগতের হইতে হইবে;
(গ) নূতন জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত হইতে হইবে; অথবা
(ঘ) উৎপাদন অথবা উপকরণ, যন্ত্র, পণ্য, কৃষিপণ্য বা প্রক্রিয়ার উন্নয়নের লক্ষ্যে অধ্যয়নের ফলাফল ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হইতে হইবে,
তবে নিম্নবর্ণিত লক্ষ্যে পরিচালিত অধ্যয়ন গবেষণা বা উন্নয়ন অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(অ) উপকরণ, যন্ত্র বা পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ বা রুটিন টেস্টিং;
(আ) শিল্পকলা ও মানবতা এবং সামাজিক বিজ্ঞানে পরিচালিত গবেষণা;
(ই) আর্থিক দলিলাদি বা আর্থিক পণ্যের সৃষ্টি ও উন্নয়ন;
(ঈ) বাজার গবেষণা বা বিক্রয় প্রচার, রুটিন উপাত্ত (data) সংগ্রহ, ইফিসিয়েন্সি সার্ভে বা ব্যবস্থাপনা অধ্যয়ন;
(উ) উপকরণ, যন্ত্র, পণ্য, প্রক্রিয়া বা উৎপাদন পদ্ধতির রুটিন অদলবদল বা পরিবর্তন;
(ঊ) উপকরণ, যন্ত্র, পণ্য, প্রক্রিয়া বা উৎপাদন পদ্ধতির সামান্য (cosmetic) অদলবদল বা স্টাইলের পরিবর্তন; বা
(ঋ) ট্রেডমার্ক বা সুনাম সৃষ্টি বা উন্নতি;
(৩৪) “গণকর্মচারী” অর্থ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো গণকর্মচারী;
(৩৫) “চাকরি” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) কোনো পদ যাহাতে নিযুক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত বা, সময় সময়, নির্ধারিতব্য পারিশ্রমিক প্রাপ্তির অধিকারী;
(খ) কোনো পরিচালক পদ বা কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো পদ;
(গ) সরকারি অফিসের কোনো পদের দায়িত্বে থাকা বা কার্য করা;
(৩৬) “চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট” অর্থ Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President’s Order No. 2 of 1973) এ সংজ্ঞায়িত কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট;
১৯[(৩৬ক) “চার্টার্ড সেক্রেটারি” অর্থ চার্টার্ড সেক্রেটারীজ আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২৫ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৬) এ সংজ্ঞায়িত কোনো চার্টার্ড সেক্রেটারি;]
(৩৭) “ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট” বা “প্রফিট এন্ড লস অ্যাকাউন্ট” অর্থে International Financial Reporting Standards (IFRS) এর আওতায় প্রস্তুতকৃত আয় বিবরণী এবং হিসাব সংক্রান্ত অন্যান্য সমরূপ বিবরণীও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩৮) “ট্রাস্ট” অর্থ Trust Act, 1882 (Act No. II of 1882) এর অধীন গঠিত ট্রাস্ট এবং Specific Relief Act, 1877 (Act No. II of 1877) এ সংজ্ঞায়িত ট্রাস্টও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে ট্রাস্ট কোনো কোম্পানি বা তহবিল গঠনের পূর্বশর্ত অথবা কোম্পানি বা তহবিল পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হইয়া থাকে সেইক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানি বা, ক্ষেত্রমত, তহবিল করযোগ্য সত্ত্বা হইবে এবং ট্রাস্ট করযোগ্য সত্ত্বা হিসাবে বিবেচিত হইবে না;
(৩৯) “ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;
(৪০) “ডিমার্জার” অর্থ অষ্টম তফসিলে সংজ্ঞায়িত ডিমার্জার;
২০[(৪০ক) “ডেভেলপার (Developer)” অর্থ এইরূপ কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, কৃত্রিমসত্তা, রাষ্ট্রায়ত্ত কর্তৃপক্ষ যিনি বা যাহা-
(ক) নিজ বা অন্যের মালিকানাধীন ভূমি, ভবন বা স্থাবর সম্পত্তির উপর-
(অ) ভূমি উন্নয়ন বা অবকাঠামো নির্মাণ বা প্লট প্রস্তুতকরণ অথবা আবাসিক বা বাণিজ্যিক বা শিল্প ভবন নির্মাণ বা উন্নয়ন বা পুনঃউন্নয়ন বা রূপান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করে; এবং
(আ) উক্ত উন্নয়ন বা নির্মাণকৃত সম্পত্তি বিক্রয় বা হস্তান্তর বা বরাদ্দ বা ইজারা প্রদানের মাধ্যমে আয় অর্জন করে বা করিবার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে;
(খ) ভূমির মালিক এবং উক্ত ভূমিতে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি (joint development agreement), অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতাপত্র (irrevocable power of attorney), সহ-উন্নয়ন (co-development), বিশেষায়িত চুক্তি (specified agreement) বা অনুরূপ ব্যবস্থার অধীন ডেভেলপাররূপে কার্যক্রম পরিচালনা করে;]
(৪১) “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (President’s Order No. 127 of 1972) এর article 2(j) -তে সংজ্ঞায়িত কোনো তফসিলি ব্যাংক;
(৪২) “তহবিল” অর্থ আপাতত বলবৎ কোনো আইন বা বিধির অধীন সৃষ্ট বা স্বীকৃত কোনো তহবিল;
(৪৩) “দাতব্য উদ্দেশ্য” অর্থ-
(ক) দরিদ্রের জন্য ত্রাণ, শিক্ষা ত্রাণ, চিকিৎসা ত্রাণ; এবং
(খ) সাধারণ জন-উপযোগের কোনো উদ্দেশ্যের উন্নতি বা প্রসার,
তবে সাধারণ জন-উপযোগের কোনো উদ্দেশ্যের উন্নতি বা প্রসার দাতব্য উদ্দেশ্য বলিয়া বিবেচিত হইবে না-
(অ) যদি না উহা ২১[কর কমিশনার] কর্তৃক অনুমোদিত হয়; এবং
(আ) যদি উহা নিম্নবর্ণিত কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়-
(১) কারবার, বাণিজ্য বা ব্যবসায় প্রকৃতির কোনো কার্যক্রম উহা যেকোনো ধরনের বা প্রকারের হউক না কেন; অথবা
(২) পণের বিনিময়ে কোনো সেবা প্রদান করিলে এবং কোনো আয়বর্ষে এইরূপ পণের মোট মূল্য ২২[১ (এক) কোটি] টাকা অতিক্রম করিলে;
(৪৪) “ধারকৃত অর্থ” অর্থে ব্যাংক কোম্পানির ক্ষেত্রে জমার মাধ্যমে গৃহীত অর্থও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৪৫) “নিবাসী” অর্থ কোনো আয়বর্ষে-
(ক) এইরূপ ২৩[কোন স্বাভাবিক ব্যক্তি] যিনি নিম্নবর্ণিত সময়ব্যাপী বাংলাদেশে অবস্থান করিয়াছেন-
(অ) ধারাবাহিকভাবে অথবা উক্ত বর্ষে সমষ্টিগতভাবে ন্যূনতম ১৮৩ (একশত তিরাশি) বা ততোধিক দিন; বা
(আ) উক্ত বর্ষে ধারাবাহিকভাবে বা সমষ্টিগতভাবে সর্বমোট ৯০ (নব্বই) দিন বা ততোধিক দিন এবং অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৪ (চার) বৎসরের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে অথবা সমষ্টিগতভাবে মোট ৩৬৫ (তিনশত পঁয়ষট্টি) অথবা ততোধিক দিন;
(খ) কোনো হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত হইয়াছে;
(গ) কোনো বাংলাদেশি কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানি যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে সংঘটিত হইয়াছে; এবং
(ঘ) কোনো ট্রাস্ট, তহবিল, সত্ত্বা বা আইনের দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা যাহাদের সৃষ্টি বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীন হইয়াছে বা যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত হইয়াছে;
(৪৬) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(৪৭) “নিয়োগকর্তা” অর্থে প্রাক্তন নিয়োগকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
২৪[(৪৮) “ন্যায্য বাজার মূল্য” অর্থ, কোনো মূলধনী সম্পদ বা ব্যবসা বা উদ্যোগ এর ক্ষেত্রে-
(ক) সংশ্লিষ্ট দিনে খোলা বাজারে উক্ত সম্পদ বা ব্যবসা বা উদ্যোগ বিক্রয় করা হইলে যেই মূল্য পাওয়া যাইতো সেই মূল্য, এবং, যেই ক্ষেত্রে উক্তরূপে মূল্য নিরূপণ করা সম্ভব নহে, সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার কর্তৃক, কর কমিশনারের লিখিত অনুমোদনক্রমে, ধার্যকৃত মূল্য;
(খ) বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক কোনো সম্পদ ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে ইজারা চুক্তির মেয়াদপূর্তিতে বা অন্য কোনোভাবে উক্ত চুক্তির সমাপনান্তে ইজারাগ্রহীতার নিকট হইতে প্রাপ্ত অবশিষ্ট মূল্য:
তবে এইক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে, এইরূপ অবশিষ্ট মূল্য এবং ইজারা চুক্তি বহাল থাকাকালীন উক্ত সম্পদের মূল্য বাবদ যেই পরিমাণ অর্থ আদায়কৃত হইয়াছে তাহার একত্রিত মূল্য ইজারাদাতা ফাইন্যান্স কোম্পানির অর্জনমূল্য বাবদ ব্যয়িত অর্থের চাইতে কম হইবে না;]
(৪৯) “পণ্য” অর্থ সিকিউরিটিজ ও অর্থ ব্যতীত সকল প্রকার দৃশ্যমান অস্থাবর সম্পত্তি;
(৫০) “পণ্য সরবরাহ” অর্থ-
(ক) পণ্যের বিক্রয়, বিনিময় বা অন্যবিধভাবে পণ্যের অধিকার হস্তান্তর; বা
(খ) লিজ, ভাড়া, কিস্তি বা অন্য কোনোভাবে পণ্যে ব্যবহারের অধিকার প্রদান এবং ফাইন্যান্স লিজের অধীন পণ্য বিক্রয় ও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
২৫[(৫১) “পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত অতিরিক্ত কর কমিশনার, যুগ্মকর কমিশনার বা ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার;]
(৫২) “পরিদর্শক” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত কর পরিদর্শক;
(৫৩) “পরিচালক” বা “ব্যবস্থাপক” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো পরিচালক বা ব্যবস্থাপক;
২৬[***]
(৫৫) “পারকুইজিট” অর্থ ধারা ৩২ এ সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট;
(৫৬) “প্রতিবন্ধী ব্যক্তি” অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৩১ এর অধীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসাবে নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি;
(৫৭) “ফটকা কারবার” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যবসা যেইক্ষেত্রে পণ্যের ক্রয় বা বিক্রয় চুক্তি এইরূপভাবে সম্পন্ন করা হয়, যাহার ফলে পণ্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর বা চূড়ান্তভাবে হস্তান্তরিত বা সরবরাহ না করিয়াও অন্যভাবে নিষ্পত্তি হইতে পারে, তবে এইরূপ কোনো ব্যবসা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যাহাতে-
(ক) কোনো কাঁচামাল অথবা পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করিবার সময় ভবিষ্যৎ দরদাম হ্রাসবৃদ্ধি জনিত লোকসান হইতে অব্যাহতি পাইবার জন্য উহার নিশ্চিত মূল্য প্রাপ্তির স্বার্থে কোনো উৎপাদক যথাযথভাবে বিলি বণ্টন বা সরবরাহ করিবার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়;
(খ) দরদাম হ্রাসবৃদ্ধির কারণে স্বীয় দখলীকৃত স্টক ও শেয়ারের লোকসানের আশঙ্কা হইতে অব্যাহতি পাইবার লক্ষ্যে ডিলার বা বিনিয়োগকারীর সহিত স্টক ও শেয়ারের বিষয়ে চুক্তি সম্পাদন করা হয়; এবং
(গ) অগ্রিম বাজার বা স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো সদস্য তাহার পাইকারি ও মধ্যস্বত্ব প্রকৃতির ব্যবসার লোকসানে, যাহা উক্ত সদস্যের ব্যবসার স্বাভাবিকতায় দেখা দিতে পারে, এইরূপ আশঙ্কার প্রতিকারার্থে কোনো চুক্তি সম্পাদন করেন;
ব্যাখ্যা। - এই দফার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(অ) পণ্য অর্থে শেয়ার বা স্টকও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(আ) কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ এবং কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় ফটকা কারবার হিসাবে অভিহিত হইবে না;
২৭[(৫৭ক) “ফাইন্যান্স কোম্পানি” অর্থ ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৯ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (১৭) তে সংজ্ঞায়িত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি;]
(৫৮) “ফার্ম” অর্থ Partnership Act, 1932 (Act No. IX of 1932) এ সংজ্ঞায়িত কোনো ফার্ম;
(৫৯) “বৎসর” অর্থ অর্থবৎসর;
(৬০) “বাজারমূল্য” অর্থ-
(ক) যেইক্ষেত্রে কৃষিজাত পণ্য কাঁচা অবস্থায় সাধারণভাবে বাজারে বিক্রয় করা হয় বা উৎপাদনের সহিত নিযুক্ত কৃষকের মাধ্যমে বিক্রয়ার্থে প্রক্রিয়াজাতপূর্বক বিক্রয় উপযোগী করা হয়, সেইক্ষেত্রে পণ্যটি হইতে উদ্ভূত আয়ের উপর সর্ব প্রথম যেই বৎসর কর নির্ধারণ করা হইবে উহার পূর্ববর্তী সমগ্র বৎসরব্যাপী উহা যে মূল্যে বিক্রয় করা হইয়াছে উহার গড়মূল্য; এবং
(খ) যেইক্ষেত্রে উক্ত কৃষিজাত পণ্য সাধারণত কাঁচা অবস্থায় বাজারে বিক্রয় করা না হইয়া থাকে, সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত অর্থের সমষ্টি-
(অ) চাষাবাদের ব্যয়;
(আ) উৎপাদিত ফসল যে ভূমিতে জন্মায় উক্ত ভূমি উন্নয়ন কর বা ভাড়া; এবং
(ই) উপকর কমিশনার কর্তৃক কৃষিপণ্য হিসাবে বিবেচিত ও তর্কিত পণ্যের বিক্রয়মূল্যের উপর পরিস্থিতি বিবেচনাক্রমে যুক্তিসঙ্গতভাবে নির্ধারিত মুনাফার হার;
(৬১) “বাংলাদেশি কোম্পানি” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন গঠিত ও নিগমিত কোনো কোম্পানি, এবং বাংলাদেশে আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন বা আইন দ্বারা স্থাপিত বা গঠিত এবং বাংলাদেশে নিবন্ধিত কার্যালয় রহিয়াছে এইরূপ কোনো সত্ত্বাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৬২) “বার্ষিক মূল্য” অর্থ কোনো সম্পত্তি ভাড়ার ক্ষেত্রে-
২৮[(ক) কোনো সম্পত্তির যুক্তিসঙ্গত বার্ষিক ভাড়া;]
(খ) যেইক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়ার পরিমাণ উপ-দফা (ক) অনুযায়ী নিরূপিত অঙ্কের অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়া;
(৬৩) “বিক্রয়লব্ধ অর্থ” অর্থ-
(ক) পরিসম্পদ বিক্রয় করা হইলে উক্ত পরিসম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা ন্যায্য বাজার মূল্য, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা অধিক;
(খ) বিনিময়ের মাধ্যমে পরিসম্পদ হস্তান্তর হইলে উক্ত হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্জিত পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য;
(গ) বিক্রয় বা বিনিময় ব্যতীত অন্য কোনোভাবে পরিসম্পদ হস্তান্তর করা হইলে উক্ত হস্তান্তরের বিনিময়ে প্রাপ্ত পণমূল্য;
(ঘ) কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন, ধ্বংস বা হারাইয়া গেলে উক্ত পরিসম্পদের স্ক্র্যাপ মূল্য, বা পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত বা প্রাপ্য অর্থসহ উহা বিক্রয়ের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত অর্থ;
(ঙ) বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীন আবশ্যিকভাবে পরিসম্পদ অধিগ্রহণ করা হইলে, অধিগ্রহণকৃত বাবদ পরিশোধিত ক্ষতিপূরণ;
(চ) করদাতার কৃষিকাজে পরিসম্পদের ব্যবহার সমাপ্ত হইলে, সমাপ্ত হইবার সময় উক্ত পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য;
(ছ) কোনো প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে ব্যবহারের পর তাহা বাংলাদেশের বাহিরে রপ্তানি বা হস্তান্তর হইলে প্রাপ্ত রপ্তানি মূল্য;
(জ) কোনো ২৯[মোটরযানের] মূল্য তৃতীয় তফসিলের অধীন সর্বোচ্চসীমা সাপেক্ষে হইলে তাহার পরিমাণ হইবে –
ক × (খ/গ), যেখানে-
ক= যানটি বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ;
খ= তৃতীয় তফসিলে যেই পরিমাণ উল্লেখ করা হইয়াছে;
গ= যানটি অর্জনের জন্য নির্বাহকৃত প্রকৃত ব্যয়;
ব্যাখ্যা।-“বিক্রয়” অর্থে বিনিময় বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর বা বলবৎ কোনো আইনের অধীন আবশ্যকভাবে অধিগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৬৪) “বিদেশি কোম্পানি” অর্থ কোনো কোম্পানি যাহা বাংলাদেশি কোম্পানি নহে;
(৬৫) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
৩০[(৬৫ক) “বেসরকারি ইনস্টিটিউট” অর্থে নিম্নবর্ণিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ;
(খ) এমপিওভুক্ত নহে অথবা বেসরকারি এইরূপ বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম বা ইংরেজি ভার্সন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;
(গ) নার্সিং বা কেয়ারগিভার স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(ঘ) মেরিন স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(ঙ) ফ্লাইং স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(চ) টেকনিক্যাল বা কারিগরি স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(ছ) ট্রেনিং স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(জ) ভোকেশনাল স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(ঝ) ভাষা শিক্ষা স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(ঞ) হসপিটালিটি ও ট্যুরিজম স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(ট) আর্ট, ফাইন আর্ট বা ফ্যাশন ডিজাইন স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(ঠ) ড্রাইভিং স্কুল, কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(ড) সকল ধরনের পেশা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও ভাষা শিক্ষা, উন্নয়ন বা প্রশিক্ষণভিত্তিক কার্যক্রম বা প্রতিষ্ঠান;]
(৬৬) “বৈজ্ঞানিক গবেষণা” অর্থ জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে প্রাকৃতিক বা ফলিত বিজ্ঞান বিষয়ে পরিচালিত কোনো কার্যক্রম;
(৬৭) “বৈজ্ঞানিক গবেষণামূলক ব্যয়” অর্থে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি বিদ্যালয় বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত দান অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে নির্বাহকৃত কোনো ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(ক) অবচয় বা অ্যার্মোটাইজেশন ভাতা প্রযোজ্য এইরূপ কোনো পরিসম্পদ বা স্পর্শাতীত (intangible) পরিসম্পদ অধিগ্রহণ;
(খ) স্থায়ী পরিসম্পদ অধিগ্রহণ; বা
(গ) কোনো প্রাকৃতিক পরিসম্পদের অস্তিত্ব, অবস্থান, ব্যাপ্তি বা মান নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নির্বাহকৃত কোনো ব্যয়;
(৬৮) “বোর্ড” অর্থ National Board of Revenue Order, 1972 (President’s Order No. 76 of 1972) এর article 3 এর clause (1) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড;
৩১[(৬৯) “ব্যক্তি (Person)” অর্থ-
(ক) স্বাভাবিক ব্যক্তি (individual);
(খ) ফার্ম (Firm);
(গ) কোম্পানি (Company);
(ঘ) হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (Hindu Undivided Family, HUF);
(ঙ) আয়, মুনাফা বা লাভ অর্জন করা অথবা অর্জন না করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত বা নিবন্ধিত ব্যক্তিসংঘ (Association of Persons, AOP);
(চ) পূর্ববর্তী উপ-দফাসমূহের কোনোটির অন্তর্ভুক্ত নহে এইরূপ কৃত্রিমসত্তা (Artificial Juridical Person, AJP);
ব্যাখ্যা।-এই দফার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, সকল ধরনের বেসরকারি ইনস্টিটিউট, ট্রাস্ট, ফান্ড, তহবিল, ধর্মীয় বা দাতব্য প্রতিষ্ঠান বা এন্ডাওমেন্ট অথবা যাহা আয় অর্জন, সম্পদ ধারণ, অধিকার গ্রহণ বা করদায় বহন বা করদাতা হিসাবে গণ্য এইরূপ সম্পদ বা স্থাপনা কৃত্তিমসত্তার অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
৩২[(৬৯ক) “ব্যক্তিসংঘ (Association of Persons, AOP)” অর্থ দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক স্বেচ্ছায় বা অন্য কোনোভাবে অভিন্ন উদ্দেশ্যে একত্রিত বা গঠিত বা গঠিত বলিয়া বিবেচিত, এইরূপ যেকোনো সত্তা, সংঘ, সমিতি অথবা যৌথ উদ্যোগ (joint venture) বা ব্যবস্থাপনা, যাহা আয়, মুনাফা বা অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে, কোম্পানি, ফার্ম, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার বা কৃত্রিমসত্তা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;]
(৭০) “ব্যবসা” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) কোনো ট্রেড, বাণিজ্য বা পণ্য উৎপাদন;
(খ) কোনো ট্রেড, বাণিজ্য বা পণ্য উৎপাদনধর্মী কোনো ঝুঁকি গ্রহণ বা কর্মপ্রচেষ্টা;
(গ) লাভজনক বা অলাভজনক কোনো সত্তার পণ্য বা সেবার বিনিময়; বা
(ঘ) যেকোনো পেশা বা বৃত্তি;
(৭১) “ব্যাংক কোম্পানি” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো ব্যাংক-কোম্পানী, এবং বাংলাদেশে আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন বা আইন দ্বারা স্থাপিত বা গঠিত এবং বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করে এইরূপ কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৭২) “ব্যাংক ট্রান্সফার” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) ব্যাংকের এক হিসাব হইতে অন্য হিসাবে ক্রসড চেক বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত অন্য কোনো পন্থায় অর্থের স্থানান্তর;
(খ) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর মাধ্যমে এক হিসাব হইতে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর;
(গ) চালানের মাধ্যমে সরকার বা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফি, চার্জ, শুল্ক-করাদি বা অন্য কোনো অর্থ সরকার বা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষের অনুকূলে পরিশোধ;
(৭৩) “মজুদ” অর্থ ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায়-
(ক) উৎপাদিত বা তৈরিকৃত যেকোনো কিছু;
(খ) তৈরি, বিক্রয় বা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে আহরিত বা ক্রয়কৃত যেকোনো কিছু; অথবা
(গ) উৎপাদন বা তৈরি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হইয়াছে এইরূপ সকল উপাদান বা সরবরাহ,
তবে শেয়ার বা স্টক ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৭৪) “মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল);
(৭৫) “মহাপরিচালক (পরিদর্শন)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত মহাপরিচালক (পরিদর্শন);
(৭৬) “মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ);
৩৩[(৭৬ক) “মুখ্য কর্মকর্তা (Principal Officer)” অর্থে এই আইনের অধীন কোনো কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, বেসরকারি ইনস্টিটিউট বা কৃত্রিমসত্তার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ অন্তর্ভুক্ত হইবেন, যথা:-
(ক) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, কোষাধ্যক্ষ, এবং পরিচালনা বা হিসাব সম্পাদনের জন্য দায়ী কোনো কর্মকর্তা, তিনি যে নামেই অভিহিত হন না কেন; বা
(খ) ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনের সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি, যাহাকে উপকর কমিশনার উক্ত প্রতিষ্ঠানের মুখ্য কর্মকর্তা গণ্য করিয়া নোটিশ প্রদান করিয়াছেন;]
৩৪[(৭৭) “মূলধনি পরিসম্পদ (Capital Asset)” অর্থ-
(ক) কোনো করদাতা কর্তৃক ধারণকৃত যেকোনো প্রকৃতির বা ধরনের সম্পত্তি;
(খ) কোনো ব্যবসা বা উদ্যোগ (undertaking) সামগ্রিকভাবে বা ইউনিট হিসাবে;
(গ) কোনো সিকিউরিটিজ;
(ঘ) ব্যবসায়িক পণ্য নহে এইরূপ ব্যক্তিগত স্বর্ণ, রৌপ্য, স্বর্ণালংকার, রৌপ্যালংকার, রত্ন-হীরক, ধাতব মুদ্রা, মূল্যবান ধাতু, চিত্রকর্ম, এন্টিকস (antiques), ক্লাবের মেম্বারশিপ;
তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(অ) করদাতার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ধারণকৃত কোনো মজুদ, ভোগ্য পণ্য বা কাঁচামাল;
(আ) ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, যেমন- পরিধেয় পোশাক, আসবাবপত্র, ফিক্সার বা কারুপণ্য, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন যাহা করদাতা কর্তৃক অথবা তাহার উপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃক কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় এবং তাহার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় নাই;]
(৭৮) “মোট আয়” অর্থ এই আইনে বর্ণিত পদ্ধতিতে হিসাবকৃত ধারা ২৬ এ উল্লিখিত মোট আয়, এবং তৎসহ এই আইনের বিধানাবলির অধীন কোনো করদাতার সর্বমোট আয়ের সহিত সংযুক্ত হইতে পারে এইরূপ অন্য যেকোনো আয়;
(৭৯) “রয়্যালটি” অর্থ নিম্নবর্ণিতভাবে অর্জিত হইতে পারে এইরূপ কোনো প্রতিদান এবং “মূলধনি আয়” খাতে প্রাপকের আয় হিসাবে গণ্য প্রতিদান ব্যতীত এককালীন কোনো প্রতিদানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) পেটেন্ট, শিল্প নকশা বা ট্রেডমার্ক বা মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত অন্য কোনো সম্পত্তির অনুমোদিত লাইসেন্সসহ সকল বা যেকোনো স্বত্ব হস্তান্তর করিবার মাধ্যমে;
(খ) পেটেন্ট, শিল্প নকশা বা ট্রেডমার্ক বা মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত অন্য কোনো সম্পত্তির ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করিবার মাধ্যমে;
(গ) পেটেন্ট, শিল্প নকশা বা ট্রেডমার্ক বা মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত অন্য কোনো সম্পত্তির এইরূপ সম্পত্তি ব্যবহার করিবার মাধ্যমে;
(ঘ) প্রযুক্তিগত, শৈল্পিক, বাণিজ্যিক বা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা কলা-কৌশল সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করিবার মাধ্যমে;
(ঙ) সিনেমাটোগ্রাফ ফিল্মের বিক্রয়, বিতরণ বা প্রদর্শন ব্যতীত কপিরাইট বা ফিল্মের লাইসেন্স প্রদানসহ যেকোনো স্বত্ব হস্তান্তর; অথবা
(চ) পূর্বে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডের সহিত সম্পৃক্ত কোনো সেবা প্রদানের মাধ্যমে;
৩৫[(৮০) “রপ্তানি” অর্থ বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার বাহিরে কোনো পণ্য বা সেবার সরবরাহ এবং নিম্নবর্ণিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) ব্যাক টু ব্যাক এলসির অধীন রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ;
(খ) বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ (লোকাল) এলসির অধীন রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল সরবরাহ;]
(৮১) “লভ্যাংশ” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে পুঞ্জিভূত মুনাফার কোনো বিতরণ, যদি এইরূপ বণ্টনের ফলে কোম্পানির পরিসম্পদ বা রিজার্ভ পূর্ণ বা আংশিকভাবে হ্রাস পায়;
(খ) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, যেকোনো প্রকারের ডিবেঞ্চার, ডিবেঞ্চার স্টক বা ডিপোজিট সার্টিফিকেটের মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে পুঞ্জিভূত মুনাফার কোনো বিতরণ;
(গ) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, কোনো কোম্পানির অবসায়নকালে উক্তরূপ অবসায়নের অব্যবহিত পূর্বে কোম্পানির পুঞ্জিভূত মুনাফা আকারে সংরক্ষিত অর্থ হইতে উহার শেয়ার হোল্ডারগণের মধ্যে বিতরণ;
(ঘ) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, মূলধন হ্রাসকরণের জন্য কোম্পানি কর্তৃক উহার মালিকানাধীন পুঞ্জিভূত মুনাফা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে বিতরণ;
(ঙ) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানি কর্তৃক বাংলাদেশের বাহিরে প্রেরিত কোনো মুনাফা;
(চ) কোনো মিউচুয়াল ফান্ড, রিয়াল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট, একচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এর মুনাফা বিতরণ;
(ছ) কোনো ৩৮[***] কোম্পানি উহার মালিকানাধীন পুঞ্জিভূত মুনাফা হইতে কোনো ৩৯[স্বাভাবিক ব্যক্তি] শেয়ারহোল্ডারগণকে অগ্রিম বা ঋণ হিসাবে পরিশোধিত যেকোনো পরিমাণ অর্থ, উহা কোম্পানির পরিসম্পদের অংশ হউক বা না হউক, অথবা এইরূপ কোনো শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এইরূপ কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত যেকোনো পরিমাণ অর্থ,
তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(অ) যেইক্ষেত্রে কোম্পানির অবসায়নকালে কোনো শেয়ারহোল্ডার বা ডিবেঞ্চারহোল্ডার কোম্পানির উদ্বৃত্ত পরিসম্পদে অংশীদারিত্বের অধিকারী নহে, সেইক্ষেত্রে উপ-দফা (গ) বা (ঘ) অনুসারে অগ্রাধিকার শেয়ারসহ যেকোনো শেয়ারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নগদ অর্থ আকারে বিতরণ, অথবা ডিবেঞ্চার বা ডিবেঞ্চার-স্টকের দায়মোচন;
(আ) যেইক্ষেত্রে ঋণ প্রদান করাই কোনো কোম্পানির মূল ব্যবসা সেইক্ষেত্রে ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায় কোনো শেয়ারহোল্ডারকে প্রদত্ত অগ্রিম বা ঋণ;
(ই) কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধকৃত কোনো লভ্যাংশ যাহা ইতঃপূর্বে পরিশোধিত সম্পূর্ণ বা আংশিক কোনো অর্থের বিপরীতে কোম্পানি কর্তৃক সমন্বয় করা হইয়াছে এবং ৪০[উপ-দফা (ছ)] এর অর্থে লভ্যাংশ হিসাবে বিবেচিত, যাহার ক্ষেত্রে উক্তরূপে সমন্বয় করা হইয়াছে ততটুকু;
(ঈ) কোনো কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত বোনাস শেয়ার;
৪১[(উ) জয়েন্ট ভেঞ্চার কর্তৃক অংশীদারগণের মধ্যে কর পরবর্তী মুনাফার বন্টনকৃত অর্থ;]
ব্যাখ্যা।-“পুঞ্জিভূত মুনাফা” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে,-
(ক) এই দফায়, এই আইনের অধীন অনুমোদনযোগ্য কোনো ভাতা, কর্তন বা অব্যাহতির মাধ্যমে সৃষ্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ রিজার্ভ;
(খ) উপ-দফা (ক), (খ) ও (ঘ) এর ক্ষেত্রে, এইরূপ বণ্টনের তারিখ পর্যন্ত কোম্পানির সকল মুনাফা; এবং
(গ) উপ-দফা (গ) এর ক্ষেত্রে, কোম্পানিটি অবসায়নের তারিখ পর্যন্ত উহার সকল মুনাফা;
(৮২) “শেয়ারহোল্ডার” অর্থে অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮৩) “সদস্য (কর)” অর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর) হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;
(৮৪) “সন্তান” অর্থে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তির সৎ সন্তান ও পোষ্য সন্তানও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮৫) “সমবায় সমিতি” অর্থ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ৪৭ নং আইন), বা সমবায় সমিতি নিবন্ধন সম্পর্কিত আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো সমবায় সমিতি;
(৮৬) “সহকারী কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন সহকারী কর কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;
৪২[(৮৬ক) “সহযোগী প্রতিষ্ঠান (Associate Enterprise, AE)” অর্থ এইরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান, যাহা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে, অথবা এক বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্তার মাধ্যমে, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ করে বা উহাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্পর্কযুক্ত থাকে, এবং যাহা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সহিত নিম্নবর্ণিত কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে, যথা:-
(ক) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ (তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা পূর্বসূরিগণসহ), প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বা এক বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্তার মাধ্যমে, উভয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ করেন;
(খ) এক প্রতিষ্ঠান, প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে, বা এক বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্তার মাধ্যমে, অন্য প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন শেয়ার ধারণ করে;
(গ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ (তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা পূর্বসূরীগণসহ) প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে, বা এক বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্তার মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন উভয় শেয়ার ধারণ করেন;
(ঘ) এক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য, অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;
(ঙ) কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্বাহী পরিচালক বা গভর্নিং বোর্ডের নির্বাহী সদস্য, অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি হন;
(চ) উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য, একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;
(ছ) উভয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক বা নির্বাহী সদস্য, একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;
(জ) কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক, অন্য প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করিবার কার্যকর ক্ষমতা থাকে;
(ঝ) উভয় প্রতিষ্ঠান, একই প্যারেন্ট কোম্পানি বা গ্রুপের সদস্য, সাবসিডিয়ারি বা কনসার্ন;
(ঞ) উভয় প্রতিষ্ঠান, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্পর্কযুক্ত থাকে;
(ট) এক প্রতিষ্ঠানের নিকট, অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্রমযোজিত দায়ের পরিমাণ, ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের বুক ভ্যালুর ৩৫% (পয়ত্রিশ শতাংশ) এর অধিক হয়; বা
(ঠ) এক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক, অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রদত্ত গ্যারান্টির ক্রমযোজিত পরিমাণ, অন্য প্রতিষ্ঠানের মোট দেনার বুক ভ্যালুর ১০% (দশ শতাংশ) এর অধিক হয়।
ব্যাখ্যা।-এই দফার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “মোট সম্পদের বুক ভ্যালু” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট হিসাববর্ষের সমাপ্তি তারিখে প্রণীত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত মোট সম্পদের বহনমূল্য (carrying amount) এর সমষ্টি;
এক্ষেত্রে, Carrying amount = Cost-cumulated depreciation-accumulated impairment (+/- other adjustment);
(৮৬খ) “সারচার্জ” অর্থে পরিবেশ সারচার্জ, টোবাকো সারচার্জ এবং অন্যান্য সারচার্জও অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
(৮৭) “সিকিউরিটিজ” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারি বিল, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ঋণপত্র (Debenture), সুকুক বা শরীয়াহ ভিত্তিক ইস্যুকৃত সিকিউরিটি বা অনুরূপ দলিল;
(খ) কোনো কোম্পানি বা আইনগত সত্তা বা ইস্যুয়ার কর্তৃক ইস্যুকৃত শেয়ার বা স্টক, বন্ধক বা চার্জ বা হাইপোথিকেশনের মাধ্যমে ইস্যুকৃত দলিল, বন্ড, ডিবেঞ্চার, ডেরিভেটিভস, মিউচুয়াল ফান্ড বা অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডসহ যেকোনো যৌথ বিনিয়োগ স্কিমের ইউনিট, সুকুক বা শরীয়াহ ভিত্তিক ইস্যুকৃত অনুরূপ দলিল, এবং পূর্বোল্লিখিত দলিল গ্রহণার্থে ক্রয়ের অধিকার বা ক্ষমতাপত্র (warrant):
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো মুদ্রা বা নোট, ড্রাফট, চেক, বিনিময়পত্র, ব্যাংকের স্বীকৃতিপত্র, ব্যবসায়িক দেনাদারদের নিকট প্রাপ্য অর্থ (trade receivables) বা ব্যবসায়িক পাওনাদারদেরকে প্রদেয় অর্থ (trade payables) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৮৮) “সুদ” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) যেকোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা, যেমন- ঋণ, ধার, ট্রেড ক্রেডিট, অগ্রিম, সিকিউরিটি বা গ্যারান্টির বিপরীতে পরিশোধিত যেকোনো প্রকারের সুদ বা আর্থিক দায়; বা
(খ) সেবা ফি বা এইরূপ কোনো প্রকারের দায় বা পরিশোধ যাহা আর্থিক সমতুল্যে সুদ হিসাবে গণ্য হইবে,
তবে অর্থ বা মূলধন সংগ্রহের সহিত জড়িত ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
৪৩[(৮৮ক) “সেট-এসাইড (set aside)” অর্থে ধারা ৩৩৫ অনুসারে নোটিশ জারি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সেট-এসাইড, আংশিক সেট-এসাইড, যাচাই-বাছাই বা পরীক্ষা বা তদন্ত বা প্রমাণাদি দাখিলের সুযোগ প্রদান করাসহ করদাতাকে উপকর কমিশনারের নিকট শুনানি বা আত্মপক্ষ সমর্থন বা দলিলাদি উপস্থাপনের যেকোনো সুযোগ প্রদানের নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
(৮৯) “সেবা” অর্থ যেকোনো সেবা, তবে পণ্য, স্থাবর সম্পত্তি এবং অর্থ (money) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
৪৪[(৮৯ক) “স্বীকৃত করদায়” অর্থ দাখিলকৃত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন এর ভিত্তিতে, ক্ষেত্রমত, ধারা ১৭৩, ১৭৪ বা ১৮১ অনুযায়ী পরিগণিত প্রদেয় আয়কর দায়;]
(৯০) “স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল” অর্থ এইরূপ ভবিষ্য তহবিল যাহা দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ৩ এর বিধানাবলির অধীন কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত;
(৯১) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ;
(৯২) “স্থায়ী স্থাপনা (permanent establishment)” অর্থ ৪৫[বাংলাদেশের সহিত অন্যান্য দেশের সম্পাদিত দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (Double Taxation Avoidance Agreement, DTAA) এর শর্ত অক্ষুণ্ন রাখিয়া ব্যবসা বা পেশা হইতে আয়ের ক্ষেত্রে, ব্যবসা বা পেশার সেইরূপ নির্দিষ্ট স্থান বা কার্যক্রম যাহার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির উক্তরূপ ব্যবসা বা পেশা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিচালিত হয়,] এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) ব্যবস্থাপনার কোনো স্থান;
(খ) কোনো শাখা;
(গ) কোনো এজেন্সি;
(ঘ) কোনো অফিস;
(ঙ) কোনো গুদাম;
(চ) কোনো কারখানা;
৪৬[(ছ) কোনো ওয়ার্কশপ (workshop);]
(জ) কোনো খনি, তৈল অথবা গ্যাসকূপ, ভূ-গর্ভস্থ খাদ অথবা প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন বা আহরণের জন্য অন্য কোনো স্থান;
(ঝ) কোনো খামার বা বৃক্ষায়ন;
(ঞ) কোনো নির্মাণ স্থান, কোনো নির্মাণ, স্থাপন বা সংযোজন প্রকল্প বা তৎসংশ্লিষ্ট কোনো তদারকি কার্যক্রম;
(ট) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বা উক্ত ব্যক্তির দ্বারা এই উদ্দেশ্যে নিয়োজিত কোনো জনবল কর্তৃক কনসালটেন্সি সেবাসহ কোনো সেবা প্রদান, যদি উক্তরূপ কার্যক্রম বাংলাদেশে (একই কাজে বা উক্ত কাজের সহিত সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কাজে) অব্যাহতভাবে চলে; এবং
(ঠ) কোনো অনিবাসী ব্যক্তির সহযোগী সত্তা বা উক্ত অনিবাসী ব্যক্তির উপর বাণিজ্যিকভাবে নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তি যিনি অনিবাসী ব্যক্তির বাংলাদেশে সম্পাদিত কোনো বিক্রয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেন;
৪৭[(ড) কোনো অনিবাসী সত্তার বাংলাদেশে “ডিজিটাল” বা “অনলাইন” কার্যক্রম বা উপস্থিতি, যদি উক্ত সত্তার ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) বা তদূর্ধ্ব, ডিজিটাল বা অনলাইন গ্রাহক বা সাবস্ক্রাইবার থাকে;]
(৯৩) “হস্তান্তর” অর্থে মূলধনি পরিসম্পদের ক্ষেত্রে, বিক্রয়, বিনিময় বা ত্যাগ বা পরিসম্পদের কোনো স্বত্ব বিলোপিত হওয়া অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(ক) মূলধনি পরিসম্পদের হস্তান্তর যদি দানমূলে, উইলমূলে, অছিয়তমূলে বা অবাতিলযোগ্য কোনো ট্রাস্টমূলে সংঘটিত হয়;
(খ) কোম্পানির অবসায়নকালে শেয়ার হোল্ডারগণের নিকট যদি উহার পরিসম্পদ যেকোনো উপায়ে বিতরণ করা হয়; এবং
(গ) ফার্ম বা অন্যবিধ ব্যক্তিসংঘের বিলুপ্তির মুহূর্তে অথবা, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার বিভক্তিকালে যদি কোনো মূলধনি পরিসম্পদের বিতরণ করা হয়।
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৪–২৫“কর কমিশনার” শব্দগুলি “বোর্ড” শব্দটির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ২২০২৪–২৫“কর কমিশনার” শব্দগুলি “বোর্ড” শব্দটির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ৩২০২৪–২৫দফা (১১) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫(গ) ধারাবলে বিলুপ্ত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ৪২০২৬–২৭“লোকসান” শব্দ “ক্ষতি” শব্দের পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৫২০২৪–২৫উপ-দফা (ছ) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫(ঘ) ধারাবলে সংযোজিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ৬২০২৬–২৭দফা (১৪) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৭২০২৬–২৭“কমিশনারও” শব্দটি “কমিশনার ও ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারও” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(গ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৮২০২৫–২৬দফা (১৯) অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ২৯(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ৯২০২৬–২৭দফা (২১) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ঘ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১০২০২৫–২৬“ক্ষেত্রে” শব্দ “বিরুদ্ধে” শব্দের পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ২৯(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ১১২০২৬–২৭দফা (২২ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ঙ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১২২০২৫–২৬দফা (২৩) অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ২৯(গ) ধারাবলে বিলুপ্ত।
- ১৩২০২৪–২৫দফা (২৫) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫(ঙ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ১৪২০২৪–২৫দফা (২৬ক) ও (২৬খ) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫(চ) ধারাবলে সংযোজিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ১৫২০২৫–২৬“, মহাপরিচালক (পরিদর্শন), কর কমিশনার (বৃহৎ করদাতা ইউনিট), কর কমিশনার (আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট), কর কমিশনার (উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট) ও কর কমিশনার (ই-ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা ইউনিট);” শব্দগুলি, বন্ধনীগুলি ও চিহ্নগুলি “ও মহাপরিচালক (পরিদর্শন);” শব্দগুলি, বন্ধনী ও চিহ্নগুলির পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ২৯(ঘ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ১৬২০২৬–২৭দফা (২৬খ) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(চ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১৭২০২৬–২৭দফা (৩০ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ছ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১৮২০২৬–২৭দফা (৩১) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(জ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১৯২০২৪–২৫দফা (৩৬ক) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫(ছ) ধারাবলে সন্নিবেশিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ২০২০২৬–২৭দফা (৪০ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ঝ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২১২০২৪–২৫“কর কমিশনার” শব্দগুলি “জাতীয় রাজস্ব বোর্ড” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫ (জ)(অ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ২২২০২৪–২৫“১ (এক) কোটি” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি “২০ (বিশ) লক্ষ” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫ (জ)(আ)ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ২৩২০২৫–২৬“কোন স্বাভাবিক ব্যক্তি” শব্দগুলি “কোনো ব্যক্তি” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ২৯(ঙ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ২৪২০২৫–২৬দফা (৪৮) অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ২৯(চ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ২৫২০২৬–২৭দফা (৫১) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ঞ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২৬২০২৬–২৭দফা (৫৪) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ট) ধারাবলে বিলুপ্ত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২৭২০২৪–২৫দফা (৫৭ক) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫ (ঝ) ধারাবলে সন্নিবেশিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ২৮২০২৫–২৬উপ-দফা (ক) অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ২৯(জ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ২৯২০২৫–২৬“মোটরযানের” শব্দ “যাত্রীবাহী যানের” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ২৯(ঝ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ৩০২০২৬–২৭দফা (৬৫ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ঠ) ধারাবলে সংযোজিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩১২০২৬–২৭দফা (৬৯) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ড) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩২২০২৬–২৭দফা (৬৯ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ঢ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩৩২০২৬–২৭দফা (৭৬ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ণ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩৪২০২৬–২৭দফা (৭৭) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ত) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩৫২০২৬–২৭দফা (৮০) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(থ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩৬২০২৫–২৬দফা (৮০ক) অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ২৯(ট) ধারাবলে সন্নিবেশিত।
- ৩৭২০২৬–২৭দফা (৮০ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(দ) ধারাবলে বিলুপ্ত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩৮২০২৪–২৫“প্রাইভেট” শব্দটি অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫ (ঞ)(অ) ধারাবলে বিলুপ্ত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ৩৯২০২৬–২৭“স্বাভাবিক ব্যক্তি” শব্দগুলি “মুনাফা হইতে কোনো” শব্দগুলির পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ধ)(অ) ধারাবলে সংযোজিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪০২০২৪–২৫“উপ-দফা (ছ)” শব্দ ও বন্ধনী “উপ-দফা (ঙ)” শব্দ ও বন্ধনীর পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫ (ঞ)(আ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ৪১২০২৬–২৭উপ-দফা (উ) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ধ)(আ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪২২০২৬–২৭দফা (৮৬ক) ও (৮৬খ) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ন) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪৩২০২৬–২৭দফা (৮৮ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(প) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪৪২০২৪–২৫দফা (৮৯ক) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ১৫ (ট) ধারাবলে সন্নিবেশিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ৪৫২০২৬–২৭“বাংলাদেশের সহিত অন্যান্য দেশের সম্পাদিত দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (Double Taxation Avoidance Agreement, DTAA) এর শর্ত অক্ষুণ্ন রাখিয়া ব্যবসা বা পেশা হইতে আয়ের ক্ষেত্রে, ব্যবসা বা পেশার সেইরূপ নির্দিষ্ট স্থান বা কার্যক্রম যাহার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির উক্তরূপ ব্যবসা বা পেশা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিচালিত হয়,” শব্দগুলি, কমাগুলি ও বন্ধনী “ব্যবসা আয়ের ক্ষেত্রে, ব্যবসার সেইরূপ নির্দিষ্ট স্থান বা কার্যক্রম যাহার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির উক্তরূপ ব্যবসা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিচালিত হয়,” শব্দগুলি ও কমাগুলির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ফ)(অ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪৬২০২৬–২৭উপ-দফা (ছ) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ফ)(আ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪৭২০২৬–২৭উপ-দফা (ড) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ২৩(ফ)(ই) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
এটি আইনের “অভিধান”। আইনে বারবার ব্যবহৃত শব্দ, যেমন আয়বর্ষ, করবর্ষ, ব্যক্তি, করদাতা, নিবাসী, এগুলোর আইনি অর্থ এখানে দেওয়া আছে। পুরো আইন বুঝতে হলে এই সংজ্ঞাগুলো আগে জানা দরকার।
মনে রাখুন
- আয়বর্ষ (দফা ১৫): যে অর্থবছরে আয় হয়েছে, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন। ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়বর্ষ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর।
- করবর্ষ (দফা ২৪): আয়বর্ষের ঠিক পরের ১২ মাস (১ জুলাই থেকে শুরু)। এই বছরেই আগের বছরের আয়ের রিটার্ন জমা দিয়ে কর নির্ধারণ হয়।
- ব্যক্তি (দফা ৬৯): শুধু মানুষ নয়। ফার্ম, কোম্পানি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ব্যক্তিসংঘ (AOP) আর কৃত্রিম সত্তাও (AJP) আইনের চোখে “ব্যক্তি”। ট্রাস্ট, ফান্ড, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কৃত্রিম সত্তার মধ্যে পড়ে।
- করদাতা (দফা ২২): শুধু যিনি কর দেন তিনি নন। যার রিটার্ন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে, যাকে ন্যূনতম কর দিতে হয়, বা যার বিরুদ্ধে এই আইনে কার্যক্রম চলছে, তিনিও করদাতা।
- নিবাসী (দফা ৪৫): আয়বর্ষে বাংলাদেশে ১৮৩ দিন বা তার বেশি থাকলে আপনি নিবাসী। অথবা আয়বর্ষে ৯০ দিন বা বেশি থাকলেন এবং আগের ৪ বছরে মোট ৩৬৫ দিন বা বেশি ছিলেন, তাহলেও নিবাসী। নিবাসী না হলে অনিবাসী (দফা ৪)।
- আত্মীয় (দফা ১০): স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাই, বোন এবং বংশানুক্রমিক পূর্বসূরি বা উত্তরসূরি।
- কর (দফা ২১): শুধু আয়কর নয়। অতিরিক্ত কর, সারচার্জ, জরিমানা, সুদ, ফি সবই “কর” শব্দের মধ্যে পড়ে।
- করমুক্ত সীমা (দফা ২৭): মোট আয়ের যে অংশে করহার শূন্য।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ২.১–২.২৩ · পৃষ্ঠা ১২–২৬- “ক্ষতি” শব্দের বদলে “লোকসান”: ধারা ২ সহ আইনের বিভিন্ন ধারায় এই পরিবর্তন শুধু পরিভাষাগত, পরিভাষায় সামঞ্জস্য আনার জন্য।
- দফা (১৪) “আয়কর”: আগে আয়করের সংজ্ঞায় সারচার্জ ধরা ছিল; এখন সারচার্জ আয়করের সংজ্ঞার বাইরে। আর দফা (২১) “কর” এর নতুন সংজ্ঞায় আয়কর, অতিরিক্ত কর, অতিরিক্ত মুনাফা কর, দণ্ড কর, সুপার কর, সারচার্জ, জরিমানা, সুদ, ফি এবং আইনের অধীন অন্যান্য আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য অর্থ ধরা হয়েছে। ফলে “আয়কর” ও “সারচার্জ” এর আলাদা আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হলো।
- দফা (১৭) “উপকর কমিশনার”: সংজ্ঞা থেকে “ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার” বাদ গেছে; ২০২৬-২৭ থেকে উপকর কমিশনারগণ ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার হিসেবে বিবেচিত হবেন না। বরং দফা (৫১) এ পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের সংজ্ঞায় এবং ধারা ৪ এর দফা (ঝ) এ আয়কর কর্তৃপক্ষ হিসেবে ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার যুক্ত হয়েছে; তাঁরা নিজ অধিক্ষেত্রে ধারা ২১৬, ২১৭ ও ২১৯ অনুযায়ী কাজ করবেন।
- দফা (২২ক) “করদিবস” (নতুন): করদাতা উদ্বুদ্ধকরণ, সম্মাননা প্রদান এবং কর শিক্ষণসহ জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার ঘোষিত জাতীয় কর দিবস।
- দফা (২৬খ) “কর নির্ধারণ”: এখন আয় নির্ধারণ, পুনঃআয় ও পুনঃকর নির্ধারণ, অতিরিক্ত আয় ও অতিরিক্ত কর নির্ধারণ এবং অধিকতর আয় ও অধিকতর কর নির্ধারণ — সবই অন্তর্ভুক্ত। মূল কর নির্ধারণ বা সেট-এসাইডের পর নতুন কর নির্ধারণ = Assessment; কর মামলা পুনঃউন্মোচন করে করা = Reassessment; রিটার্ন প্রসেস (ধারা ১৮১) বা অডিট (ধারা ১৮২) এর মাধ্যমে করা = Additional assessment; ধারা ২১৩, ২৮৫, ২৮৯, ২৯২, ২৯৪, ২৯৫ এর আদেশ বা ADR ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা = Further assessment।
- দফা (৩০ক) “কাঁচামাল” (নতুন): যে দ্রব্য, উপাদান বা সামগ্রী পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রস্তুতকরণ বা সংযোজনে সরাসরি ব্যবহৃত হয়ে সম্পূর্ণ বা আংশিক ভোগ (consumed), রূপান্তরিত বা চূড়ান্ত পণ্যে পরিণত হয়।
- দফা (৩১) “কোম্পানি”: কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর কোম্পানির পাশাপাশি যুক্ত হলো — বিদেশি প্রতিষ্ঠানের লিয়াজোঁ/রিপ্রেজেন্টেটিভ/ব্রাঞ্চ অফিস বা স্থায়ী স্থাপনা; বিদেশি আইনে নিবন্ধিত সত্তা; ব্যাংকিং, বিমা, লিজিং বা ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান; এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিতে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান; কোম্পানি হিসেবে গঠিত অংশীদার; ব্যবসায়িক কার্যক্রমসম্পন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান; এবং বোর্ড ঘোষিত বিদেশি সংঘ বা সংস্থা।
- দফা (৪০ক) “ডেভেলপার” (নতুন): নিজের বা অন্যের জমি, ভবন বা স্থাবর সম্পত্তিতে ভূমি উন্নয়ন, অবকাঠামো, প্লট, আবাসিক/বাণিজ্যিক/শিল্প ভবন নির্মাণ বা রূপান্তর করে বিক্রয়, হস্তান্তর, বরাদ্দ বা ইজারায় আয় করেন — অথবা জমির মালিকের সাথে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি, অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতাপত্র, সহ-উন্নয়ন বা বিশেষায়িত চুক্তির অধীনে কাজ করেন — এমন ব্যক্তি বা সত্তা।
- দফা (৫১) “পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার”: সংজ্ঞায় ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার যুক্ত হয়েছে; তিনি নিজ অধিক্ষেত্রে ধারা ২১৬, ২১৭ ও ২১৯ অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন।
- দফা (৫৪) “প্রধান কর্মকর্তা” বিলুপ্ত; তার জায়গায় দফা (৭৬ক) “মুখ্য কর্মকর্তা (Principal Officer)” — কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, বেসরকারি ইনস্টিটিউট বা কৃত্রিমসত্তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, কোষাধ্যক্ষ বা পরিচালনা/হিসাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত যেকোনো কর্মকর্তা; অথবা উপকর কমিশনার যাঁকে নোটিশ দিয়ে মুখ্য কর্মকর্তা গণ্য করেছেন।
- দফা (৬৫ক) “বেসরকারি ইনস্টিটিউট” (নতুন): বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ; এমপিওভুক্ত নয় এমন বা বেসরকারি বাংলা/ইংরেজি মাধ্যম বা ইংরেজি ভার্সন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; নার্সিং, মেরিন, ফ্লাইং, টেকনিক্যাল, ট্রেনিং, ভোকেশনাল, ভাষা শিক্ষা, হসপিটালিটি ও ট্যুরিজম, আর্ট/ফ্যাশন ডিজাইন, ড্রাইভিং প্রতিষ্ঠান এবং সব ধরনের পেশা, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
- দফা (৬৯) “ব্যক্তি (Person)”: স্বাভাবিক ব্যক্তি, ফার্ম, কোম্পানি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ব্যক্তিসংঘ (AOP) এবং কৃত্রিমসত্তা (AJP)। ট্রাস্ট, ফান্ড, তহবিল, ধর্মীয় বা দাতব্য প্রতিষ্ঠান, এন্ডাওমেন্ট, বেসরকারি ইনস্টিটিউট ইত্যাদি আগের কোনো শ্রেণিতে না পড়লে কৃত্রিমসত্তা; অর্থ আইন, ২০২৬ এর তফসিল ২ এ কৃত্রিমসত্তার করহার ২৭.৫%।
- দফা (৬৯ক) “ব্যক্তিসংঘ (AOP)” (নতুন): দুই বা ততোধিক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বা অন্যভাবে অভিন্ন উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে আয়, মুনাফা বা অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করে এমন সত্তা, সংঘ, সমিতি, যৌথ উদ্যোগ বা ব্যবস্থাপনা; তবে কোম্পানি, ফার্ম, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার বা কৃত্রিমসত্তা নয়।
- দফা (৭৭) “মূলধনি পরিসম্পদ”: ব্যবসায়িক পণ্য নয় এমন ব্যক্তিগত স্বর্ণ, রৌপ্য, মূল্যবান ধাতু, রত্ন, চিত্রকর্ম, এন্টিকস এবং ক্লাবের সদস্যপদ এখন মূলধনি পরিসম্পদ। এগুলো থেকে লাভ মূলধনী লাভ, কর সপ্তম তফসিলের হারে।
- দফা (৮০) “রপ্তানি”: ব্যাক টু ব্যাক এলসির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ (লোকাল) এলসির অধীনে রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল সরবরাহও রপ্তানি।
- দফা (৮০ক) “রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ” বিলুপ্ত — ধারা ১৭০ সংশোধনে করবছরব্যাপী রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়ায় এর প্রয়োজন নেই।
- দফা (৮১) “লভ্যাংশ”: কোম্পানি শুধু স্বাভাবিক ব্যক্তিকে অগ্রিম বা ঋণ দিলে তা লভ্যাংশ; অন্য ব্যক্তিকে (যেমন কোম্পানি শেয়ারহোল্ডার) দিলে নয়। জয়েন্ট ভেঞ্চার কর-পরবর্তী মুনাফা অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করলে তা লভ্যাংশ নয়, অংশীদারদের “অন্যান্য উৎসের আয়”।
- দফা (৮৬ক) “সহযোগী প্রতিষ্ঠান (AE)” (নতুন, পুরো আইনে প্রযোজ্য): ঋণের সীমা ৫০% থেকে কমিয়ে ৩৫% — ঋণ গ্রহণকারীর ক্রমযোজিত দায় ঋণদাতার মোট সম্পদের বুক ভ্যালুর ৩৫% এর বেশি হলে দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। “মোট সম্পদের বুক ভ্যালু” = নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে দেখানো মোট সম্পদের বহনমূল্য (Carrying Amount)।
- দফা (৮৬খ) “সারচার্জ” (নতুন): পরিবেশ সারচার্জ, টোবাকো সারচার্জ ও অন্যান্য সারচার্জ।
- দফা (৮৮ক) “সেট-এসাইড” (নতুন): আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে উপকর কমিশনারের কাছে নতুন করে শুনানি, যাচাই-বাছাই, আত্মপক্ষ সমর্থন বা দলিল উপস্থাপনের সুযোগ। তবে ধারা ৩৩৫(৪) অনুযায়ী নোটিশ মেনে রিটার্ন দাখিলের পর নোটিশের বৈধতা প্রশ্ন করা যায় না, তাই সেই ভিত্তিতে কর নির্ধারণ বা জরিমানার আদেশ সেট-এসাইড করা যাবে না।
- দফা (৯২) “স্থায়ী স্থাপনা”: বাংলাদেশের দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAA) থাকলে চুক্তির বিধান অগ্রাধিকার পাবে; “কর্মশিবির” এর বদলে “Workshop”। কোনো অনিবাসী সত্তার বাংলাদেশে ১ লক্ষ বা তার বেশি ডিজিটাল/অনলাইন গ্রাহক বা সাবস্ক্রাইবার থাকলে তার ডিজিটাল বা অনলাইন উপস্থিতি স্থায়ী স্থাপনা গণ্য হবে।
- সব সংশোধিত বিধান ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে প্রযোজ্য।
উদাহরণ ২ — স্থায়ী স্থাপনা এখন “কোম্পানি”
- ১XYZ Ltd. একটি বিদেশি কোম্পানি; বাংলাদেশে তার একটি স্থায়ী স্থাপনা আছে, যার করযোগ্য আয় ৫,০০,০০,০০০ টাকা।
- ২অর্থ আইন, ২০২৬ এর ফলে স্থায়ী স্থাপনা স্পষ্টভাবে “কোম্পানি” এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত, তাই এটিকে কোম্পানি গণ্য করে কর নির্ধারণ হবে।
উদাহরণ ৩ — ব্যক্তিগত স্বর্ণ বিক্রয়ে মূলধনী মুনাফা
- ১মিজ ‘বুল্টি’ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মায়ের কাছ থেকে উপহার হিসেবে ৫ ভরি স্বর্ণ (২২ ক্যারেট) পান; রিটার্নে মূল্য দেখান ২,৫০,০০০ টাকা।
- ২২০২৬ সালের মে মাসে স্বর্ণ বিক্রি করেন ৬,৮০,০০০ টাকায়।
- ৩মূলধনী মুনাফা = (৬,৮০,০০০ − ২,৫০,০০০) = ৪,৩০,০০০ টাকা।
- ৪প্রদেয় মূলধনী মুনাফা কর = ৪,৩০,০০০ × ৫% = ২১,৫০০ টাকা।
উদাহরণ ৪ — লোকাল এলসিতে কাঁচামাল সরবরাহ = রপ্তানি
- ১Luca Textiles Limited লোকাল এলসির মাধ্যমে Nora Group Limited এর রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় ৫ কোটি টাকার স্থানীয় ডেনিম ফেব্রিক সরবরাহ করেছে; মূল্য বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধিত।
- ২অর্থ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এই সরবরাহও রপ্তানি হিসেবে গণ্য হবে।
উদাহরণ ৫ — শেয়ারহোল্ডারকে ঋণ কখন লভ্যাংশ
- ১মোসান কোম্পানি লিমিটেডের সঞ্চিত মুনাফা ২ কোটি টাকা। কোম্পানি একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারকে ৩০ লক্ষ এবং একটি কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারকে ২০ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছে।
- ২স্বাভাবিক ব্যক্তির ৩০ লক্ষ টাকা লভ্যাংশ গণ্য; তিনি রিটার্নে লভ্যাংশ আয় দেখিয়ে কর দেবেন।
- ৩কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারের ২০ লক্ষ টাকা লভ্যাংশ নয়। তবে ধারা ৪৬(১১ক) অনুযায়ী এই ঋণে ১২% এর কম সুদ পেলে, কম পাওয়া সুদ মোসান কোম্পানির “ব্যবসা বা পেশা হতে আয়”।
উদাহরণ ৬ — সম্পদের বহনমূল্য (Carrying amount)
- ১জিংগেল কোম্পানির মেশিনের অর্জনমূল্য ১০ লক্ষ টাকা, পুঞ্জিভূত অবচয় ১ লক্ষ টাকা, অকেজো অংশের মূল্য ২,০০,০০০ টাকা।
- ২Carrying amount = Cost − accumulated depreciation − accumulated impairment (± other adjustment)।
- ৩= (১০,০০,০০০ − ১,০০,০০০ − ২,০০,০০০) = ৭,০০,০০০ টাকা।
উদাহরণ ৭ — ঋণের ভিত্তিতে সহযোগী প্রতিষ্ঠান
- ১কোম্পানি X এর মোট সম্পদের বুক ভ্যালু ২০০ কোটি টাকা; X, কোম্পানি Y কে ৮০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
- ২ঋণ = (৮০ ÷ ২০০) × ১০০ = ৪০%।
- ৩৪০% > ৩৫%, তাই X ও Y সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
উদাহরণ ৮ — গ্যারান্টির ভিত্তিতে সহযোগী প্রতিষ্ঠান
- ১কোম্পানি M এর মোট দায় ৫০০ কোটি টাকা; কোম্পানি N, M এর ৬০ কোটি টাকার ঋণের গ্যারান্টর।
- ২গ্যারান্টি = (৬০ ÷ ৫০০) × ১০০ = ১২%।
- ৩১২% > ১০%, তাই M ও N সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ: আয়বর্ষ, করবর্ষ আর নিবাসী
- ১রহিম সাহেব ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন। এটি তার আয়বর্ষ ২০২৫–২৬।
- ২এই আয়ের রিটার্ন তিনি জমা দেবেন করবর্ষ ২০২৬–২৭ এ।
- ৩করিম সাহেব প্রবাসী। আয়বর্ষ ২০২৫–২৬ এ তিনি দেশে ছিলেন ১০০ দিন, আর আগের ৪ বছরে মোট ৪০০ দিন। ৯০ দিনের বেশি এবং আগের ৪ বছরে ৩৬৫ দিনের বেশি, তাই তিনি নিবাসী।
- ৪একই করিম সাহেব যদি আগের ৪ বছরে মোট ২০০ দিন থাকতেন, তাহলে তিনি হতেন অনিবাসী।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
নিবাসী নাকি অনিবাসী, এটা ঠিক করার জন্য পাসপোর্টের প্রবেশ ও বহির্গমনের তারিখ গুনে রাখুন। নিবাসী আর অনিবাসীর করহার ও করমুক্ত সীমা আলাদা হতে পারে, তাই এটা আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৬ এই ধারায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। যেমন: “আয়কর” ও “কর” এর সংজ্ঞা নতুন করে লেখা হয়েছে, “করদিবস” (দফা ২২ক) ও “সারচার্জ” (দফা ৮৬খ) এর সংজ্ঞা যোগ হয়েছে, “আয়” এর সংজ্ঞায় “ক্ষতি” শব্দের জায়গায় “লোকসান” বসেছে। কোন দফা কবে কীভাবে বদলেছে তা উপরের সংশোধনী টীকায় দেখুন।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
কর আইনে একটি শব্দের অর্থ বদলালে করের পরিমাণ বদলে যায়। তাই আইনপ্রণেতারা ধারা ২ এ শব্দগুলোর অর্থ বেঁধে দিয়েছেন, যেন করদাতা আর কর কর্মকর্তা একই অর্থে পড়েন। খেয়াল করার বিষয় হলো সংজ্ঞাগুলো খুব বিস্তৃত। “ব্যক্তি” মানে শুধু মানুষ নয়, “করদাতা” মানে শুধু কর দেন যিনি তিনি নন, “আয়” এর মধ্যে এমন সম্পদ অর্জনও আছে যা প্রাকৃতিক বা নিজের সৃষ্টি নয়। নীতির লক্ষ্য হলো কর জাল বাড়ানো আর ফাঁক বন্ধ করা। অর্থ আইন, ২০২৬ “কর”, “আয়কর”, “সারচার্জ” আর “করদিবস” এর সংজ্ঞা নতুন করে লিখে বা যোগ করে এই ধারাকে আরও বিস্তৃত করেছে।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
কর কর্মকর্তা প্রথমে করদাতার ধরন ঠিক করেন: স্বাভাবিক ব্যক্তি, ফার্ম, কোম্পানি, ব্যক্তিসংঘ নাকি কৃত্রিম সত্তা (দফা ৬৯)। এরপর দেখেন নিবাসী কিনা (দফা ৪৫), আর কোন আয়বর্ষ ও করবর্ষ (দফা ১৫, ২৪)। এই তিনটিতে ভুল থাকলে পুরো কর নির্ধারণ ভুল হয়। এজন্য শুনানিতে প্রায়ই পাসপোর্ট, ট্রেড লাইসেন্স আর নিবন্ধন সনদ চাওয়া হয়।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
বিরোধে সংজ্ঞাই প্রথম যুদ্ধক্ষেত্র। যেমন “নিবাসী” নির্ধারণে দিন গোনার পদ্ধতি, বা কোনো সংগঠন “ব্যক্তিসংঘ” নাকি “কৃত্রিম সত্তা”, বা কোনো প্রাপ্তি দফা ১৩ অনুযায়ী “আয়” কিনা। ধারার শুরুতে বলা আছে “বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কিছু না থাকিলে”। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ধারায় প্রসঙ্গ ভিন্ন অর্থ দাবি করলে সেই অর্থ প্রযোজ্য হতে পারে, আর এটা আইনজীবীর যুক্তির একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
হিসাবের ভাষা আর কর আইনের ভাষা এক নয়। যেমন IFRS এ যেটা “income”, কর আইনে তা আয় নাও হতে পারে (ধারা ৫৭ এর ধারণাগত লাভ)। আবার কর আইনে উৎসে কর্তনযোগ্য অঙ্কও আয়ের অন্তর্ভুক্ত (দফা ১৩খ)। ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়বর্ষ জানুয়ারি–ডিসেম্বর, আর বিদেশি মূল কোম্পানির সহযোগীরা উপকর কমিশনারের অনুমোদনে ভিন্ন ১২ মাস নিতে পারে। বছর শেষের পরিকল্পনা এই সংজ্ঞা ধরেই করতে হয়।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
নিবাসী অবস্থা কর পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বিষয়। প্রবাস থেকে ফেরার বা বিদেশ যাওয়ার বছরে ১৮৩ দিন এবং “৯০ দিন + আগের ৪ বছরে ৩৬৫ দিন” পরীক্ষা দুটোই হিসাব করুন। নিবাসী হলে বিশ্বব্যাপী আয় করযোগ্য (ধারা ২৬), আর অনিবাসী হলে শুধু বাংলাদেশে উদ্ভূত আয়। আবার “আত্মীয়” এর সংজ্ঞা (দফা ১০) অনেক বিধানে কাজে লাগে, যেমন পারিবারিক ঋণ ও উপহারের ব্যতিক্রম।
জটিল উদাহরণ: ব্যাংকের আয়বর্ষ বনাম সাধারণ কোম্পানি
- ১একটি বেসরকারি ব্যাংকের আয়বর্ষ ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ (দফা ১৫চ)। এই আয়ের কর নির্ধারণ হবে পরের করবর্ষে।
- ২একই গ্রুপের একটি সাধারণ উৎপাদনকারী কোম্পানির আয়বর্ষ ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬, করবর্ষ ২০২৬–২৭।
- ৩গ্রুপের একীভূত হিসাব একই তারিখে হলেও, দুই কোম্পানির রিটার্নের সময় আর আয়বর্ষ আলাদা।
জটিল উদাহরণ: নতুন ব্যবসার প্রথম আয়বর্ষ
- ১রুমানা আপা ১ মার্চ ২০২৬ এ একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করলেন।
- ২দফা ১৫(ক) অনুযায়ী তার প্রথম আয়বর্ষ ১ মার্চ ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬, মাত্র ৪ মাস।
- ৩এই ৪ মাসের আয়ের রিটার্ন যাবে করবর্ষ ২০২৬–২৭ এ। পরের আয়বর্ষ হবে পূর্ণ ১২ মাস, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭।
জটিল উদাহরণ: সংগঠনটি কোন “ব্যক্তি”?
- ১পাঁচজন বন্ধু চুক্তি ছাড়াই একসাথে একটি ক্যাটারিং ব্যবসা চালান এবং লাভ ভাগ করেন। তারা ফার্ম হিসেবে নিবন্ধিত নন, কোম্পানিও নন।
- ২অভিন্ন উদ্দেশ্যে আয়ের জন্য একত্রিত হওয়ায় তারা ব্যক্তিসংঘ (AOP) হিসেবে গণ্য হতে পারেন (দফা ৬৯ক)। তখন সংঘটি নিজেই করদাতা।
- ৩একটি নিবন্ধিত ট্রাস্ট বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সত্তা (AJP) হিসেবে “ব্যক্তি” (দফা ৬৯ এর ব্যাখ্যা)।
সাধারণ ভুল
- আয়বর্ষ আর করবর্ষ গুলিয়ে ফেলা। রিটার্নে “করবর্ষ ২০২৬–২৭” মানে আয় হয়েছে ২০২৫–২৬ আয়বর্ষে।
- শুধু ১৮৩ দিনের পরীক্ষা দেখে নিজেকে অনিবাসী ধরা, অথচ “৯০ দিন + আগের ৪ বছরে ৩৬৫ দিন” পরীক্ষায় নিবাসী হয়ে যাওয়া।
- অনানুষ্ঠানিক যৌথ ব্যবসাকে কারো ব্যক্তিগত আয় হিসেবে দেখানো, যখন আইনের চোখে সেটা ব্যক্তিসংঘ।
- “কর” বলতে শুধু আয়কর বোঝা। আইনে কর মানে জরিমানা, সুদ, সারচার্জ, ফিসহ সব।
করণীয় চেকলিস্ট
- নিজের করদাতার ধরন ঠিক করুন (দফা ৬৯)।
- পাসপোর্টের দিন গুনে নিবাসী অবস্থা নির্ধারণ করুন, দুটো পরীক্ষাই করে (দফা ৪৫)।
- আপনার আয়বর্ষ কোন সময় পর্যন্ত, তা নিশ্চিত করুন (দফা ১৫), বিশেষ করে ব্যবসা শুরু বা বন্ধের বছরে।
- প্রয়োজনে সংজ্ঞা অনুযায়ী আত্মীয়ের তালিকা মিলিয়ে নিন (দফা ১০)।
প্রশ্নোত্তর
আমি সারা বছর বিদেশে ছিলাম, কিন্তু ১০০ দিন দেশে এসেছিলাম। আমি কি নিবাসী?
শুধু ১০০ দিনে ১৮৩ দিনের পরীক্ষা পূরণ হয় না। কিন্তু দ্বিতীয় পরীক্ষা দেখুন: এই বছরে ৯০ দিনের বেশি থাকলেন, আর আগের ৪ বছরে মোট ৩৬৫ দিন বা বেশি দেশে থাকলে আপনি নিবাসী। দুটো পরীক্ষার কোনোটি পূরণ না হলে অনিবাসী।
আমার ফ্রিল্যান্সিং আয় কি “ব্যবসা” এর মধ্যে পড়ে?
দফা ৭০ অনুযায়ী “ব্যবসা” এর মধ্যে যেকোনো পেশা বা বৃত্তি অন্তর্ভুক্ত। তাই নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিং সাধারণত ব্যবসা বা পেশা থেকে আয় হিসেবে দেখানো হয়। তবে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের কিছু অংশ ষষ্ঠ তফসিলের অব্যাহতির আওতায় থাকতে পারে, রিটার্নের আগে তা দেখে নিন।
“করদিবস” কেন আইনে সংজ্ঞায়িত করা হলো?
অর্থ আইন, ২০২৬ দফা (২২ক) যোগ করে করদিবসকে করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করা, সম্মাননা দেওয়া আর কর শিক্ষাসহ জনসচেতনতার জাতীয় দিবস হিসেবে আইনে স্বীকৃতি দিয়েছে। রিটার্ন দাখিলের সময়সীমার নিয়ম আলাদাভাবে ধারা ১৭০ এ আছে।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
