অংশ ৬: অব্যাহতি, বাদ ও কর অবকাশ · প্রথম অধ্যায়: অব্যাহতি, হ্রাস ও বাদ
ধারা ৭৮ — কতিপয় বিনিয়োগ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ কর রেয়াত
Income Tax Act, 2023 · Section 78
আইনের মূল পাঠ
৭৮। এই আইনের বিধান সাপেক্ষে এবং ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৩ এ নির্ধারিত সীমা, শর্তাবলি এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে কোনো বিনিয়োগ করা হইলে, কোনো করবর্ষে মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর হইতে নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ও অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা নিম্নবর্ণিতভাবে কর রেয়াত প্রাপ্য হইবেন-
(ক) ০.০৩ × ‘ক’; বা
(খ) ১[০.১০] × ‘খ’; বা
(গ) ২[৭.৫০ (সাত দশমিক পাঁচ শূন্য)] লক্ষ টাকা,
এই তিনটির মধ্যে যাহা কম,
এইক্ষেত্রে-
‘ক’ = কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়, হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য এইরূপ আয় ৩[, অংশীদারি ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয় এবং চূড়ান্ত করদায়] প্রযোজ্য এইরূপ আয় বাদ দিয়া পরিগণিত মোট আয়, এবং
‘খ’ = কোনো আয়বর্ষে ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৩ অনুসারে করদাতার মোট বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিমাণ।
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৬–২৭“০.১০ ” সংখ্যা “০.১৫” সংখ্যার পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৬১(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২২০২৬–২৭“৭.৫০ (সাত দশমিক পাঁচ শূন্য)” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী “১০ (দশ)” সংখ্যা, শব্দ ও বন্ধনীর পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৬১(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩২০২৫–২৬“, অংশীদারি ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয় এবং চূড়ান্ত করদায়” চিহ্ন ও শব্দগুলি “এবং ন্যূনতম কর” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ৫৯ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ বা খরচ করলে আপনার প্রদেয় কর থেকে সরাসরি একটা অংশ বাদ যায়, যাকে বলে কর রেয়াত। অর্থ আইন, ২০২৬ এর পর রেয়াত হলো তিনটির মধ্যে যেটা সবচেয়ে কম: রেয়াতযোগ্য আয়ের ৩%, বিনিয়োগের ১০%, অথবা ৭,৫০,০০০ টাকা।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১রেয়াত কারা পাবেন: শুধু নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি, আর অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি। কোম্পানি বা ফার্ম এই রেয়াত পায় না।
- ২কোন বিনিয়োগে রেয়াত: যেগুলো ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ৩ এ তালিকাভুক্ত, সেই অংশে বলা সীমা ও শর্ত মেনে। সাধারণত সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বিমার প্রিমিয়াম, ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা, তালিকাভুক্ত শেয়ার ইত্যাদি এই ধরনের তালিকায় থাকে, তবে চলতি বছরের তালিকা ও সীমা তফসিল থেকে মিলিয়ে নিতে হবে।
- ৩রেয়াত হিসাবের তিনটি নিয়ম। নিয়ম ১: রেয়াতযোগ্য আয়ের ৩% (০.০৩ × ক)। এখানে “ক” মানে আপনার মোট আয়, কিন্তু করমুক্ত আয়, কম হারের আয়, ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ থেকে পাওয়া শেয়ার আয়, আর চূড়ান্ত করদায়ের আয় বাদ দিয়ে।
- ৪নিয়ম ২: বছরে মোট যোগ্য বিনিয়োগ ও খরচের ১০% (০.১০ × খ)।
- ৫নিয়ম ৩: সর্বোচ্চ ৭,৫০,০০০ টাকা।
- ৬তিনটি হিসাব করে যেটা সবচেয়ে কম, সেটাই আপনার রেয়াত। এই টাকা আপনার মোট আয়ের উপর হিসাব করা কর থেকে বাদ যাবে।
- ৭বুদ্ধিমানের হিসাব: নিয়ম ১ (আয়ের ৩%) আপনার সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ঠিক করে। নিয়ম ২ অনুযায়ী সেই সীমায় পৌঁছাতে বিনিয়োগ লাগবে রেয়াতের ১০ গুণ। এর বেশি বিনিয়োগ করলে রেয়াত আর বাড়বে না।
মনে রাখুন
- রেয়াত = সর্বনিম্ন (রেয়াতযোগ্য আয়ের ৩%, বিনিয়োগের ১০%, ৭.৫ লক্ষ টাকা)।
- শুধু নিবাসী ব্যক্তি আর অনিবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তি পাবেন।
- বিনিয়োগ হতে হবে ষষ্ঠ তফসিল অংশ ৩ এর তালিকা, সীমা ও শর্ত অনুযায়ী।
- রেয়াত সরাসরি কর থেকে বাদ যায়, আয় থেকে নয়।
- সর্বোচ্চ রেয়াত পেতে বিনিয়োগ = (আয়ের ৩%) × ১০ = আয়ের ৩০%।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ৩২ · পৃষ্ঠা ৬১–৬৩- বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের দুটি সীমা কমেছে: অনুমোদনযোগ্য মোট বিনিয়োগের ১৫% থেকে ১০%, আর সর্বোচ্চ সীমা ১০ লক্ষ থেকে ৭.৫০ লক্ষ টাকা। মোট আয়ের ৩% সীমা অপরিবর্তিত।
- কর রেয়াত = নিচের তিনটির যেটি সর্বনিম্ন: (ক) মোট আয়ের ৩%; (খ) অনুমোদনযোগ্য মোট বিনিয়োগের ১০%; (গ) ৭,৫০,০০০ টাকা।
- এখানে “মোট আয়” = কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়, হ্রাসকৃত করহারের আয়, অংশীদারি ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ থেকে প্রাপ্ত শেয়ারের আয় এবং চূড়ান্ত করদায়ের আয় বাদ দিয়ে পরিগণিত মোট আয়।
- সংশোধিত বিধান ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে প্রযোজ্য।
উদাহরণ ২৩ — সর্বোচ্চ সীমায় আটকে যাওয়া
- ১ইমতিয়াজ হাসান তনয়: মোট আয় ৫ কোটি টাকা; ষষ্ঠ তফসিলের অংশ-৩ অনুযায়ী বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা।
- ২(১) মোট আয়ের ৩% = ১৫,০০,০০০; (২) বিনিয়োগের ১০% = ১০,০০,০০০; (৩) সর্বোচ্চ সীমা = ৭,৫০,০০০।
- ৩প্রাপ্য কর রেয়াত (সর্বনিম্ন) = ৭,৫০,০০০ টাকা।
উদাহরণ ২৪ — বিনিয়োগের ১০% এ আটকে যাওয়া
- ১তানভীর আহমেদ: মোট আয় ২ কোটি টাকা; বিনিয়োগ ৪০ লক্ষ টাকা।
- ২(১) মোট আয়ের ৩% = ৬,০০,০০০; (২) বিনিয়োগের ১০% = ৪,০০,০০০; (৩) সর্বোচ্চ সীমা = ৭,৫০,০০০।
- ৩প্রাপ্য কর রেয়াত (সর্বনিম্ন) = ৪,০০,০০০ টাকা।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ ১: মাঝারি আয়ের চাকরিজীবী
- ১রিপন সাহেবের রেয়াতযোগ্য মোট আয় ১৫,০০,০০০ টাকা। তিনি বছরে যোগ্য খাতে বিনিয়োগ করেছেন ৩,০০,০০০ টাকা।
- ২নিয়ম ১: ১৫,০০,০০০ × ৩% = ৪৫,০০০ টাকা।
- ৩নিয়ম ২: ৩,০০,০০০ × ১০% = ৩০,০০০ টাকা।
- ৪নিয়ম ৩: ৭,৫০,০০০ টাকা।
- ৫সবচেয়ে কম ৩০,০০০ টাকা, তাই তার রেয়াত ৩০,০০০ টাকা। তার হিসাব করা কর থেকে এই টাকা বাদ যাবে।
উদাহরণ ২: পুরো রেয়াত পেতে কত বিনিয়োগ দরকার
- ১রিপন সাহেবের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য রেয়াত নিয়ম ১ অনুযায়ী ৪৫,০০০ টাকা।
- ২এটা পেতে নিয়ম ২ এ বিনিয়োগ লাগবে ৪৫,০০০ ÷ ১০% = ৪,৫০,০০০ টাকা।
- ৩তিনি যদি ৪,৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন, রেয়াত হবে ৪৫,০০০ টাকা। ৬,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলেও রেয়াত ৪৫,০০০ টাকাই থাকবে।
উদাহরণ ৩: উচ্চ আয়ের করদাতা, ৭.৫ লক্ষ সীমা
- ১একজন ব্যবসায়ীর রেয়াতযোগ্য আয় ৩,০০,০০,০০০ টাকা। তিনি বিনিয়োগ করেছেন ১,০০,০০,০০০ টাকা।
- ২নিয়ম ১: ৩ কোটির ৩% = ৯,০০,০০০ টাকা। নিয়ম ২: ১ কোটির ১০% = ১০,০০,০০০ টাকা। নিয়ম ৩: ৭,৫০,০০০ টাকা।
- ৩সবচেয়ে কম ৭,৫০,০০০ টাকা, তাই রেয়াত ৭,৫০,০০০ টাকা। তার জন্য ৭৫ লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগ রেয়াত বাড়াবে না।
উদাহরণ ৪: অর্থ আইন, ২০২৬ এর আগে ও পরে
- ১আগের নিয়মে বিনিয়োগের ১৫% আর সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা ছিল। এখন বিনিয়োগের ১০% আর সর্বোচ্চ ৭.৫ লক্ষ টাকা।
- ২রিপন সাহেবের ৩,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগে আগের নিয়মে রেয়াত হতো ৪৫,০০০ টাকা (১৫%), এখন ৩০,০০০ টাকা (১০%)।
- ৩অর্থাৎ একই রেয়াত পেতে এখন আগের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
বছরের শুরুতেই হিসাব করে নিন আপনার আয়ের ৩% কত, আর সেটা পেতে কত বিনিয়োগ লাগবে (রেয়াতের ১০ গুণ)। জুন মাসে তাড়াহুড়ো করে বিনিয়োগ না করে সারা বছর ধরে করুন, আর প্রতিটি বিনিয়োগের সনদ বা রসিদ রাখুন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৬ বিনিয়োগের হার ১৫% থেকে কমিয়ে ১০% আর সর্বোচ্চ সীমা ১০ লক্ষ থেকে কমিয়ে ৭.৫ লক্ষ টাকা করেছে (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)। অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ “ক” এর হিসাবে ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের শেয়ার আয় আর চূড়ান্ত করদায়ের আয় বাদ দেওয়ার কথা যোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
বিনিয়োগ রেয়াতের দুটি নীতিগত লক্ষ্য: ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে সরকারি সিকিউরিটিজ, পুঁজিবাজার ও দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে নিয়ে আসা, আর মধ্যবিত্ত করদাতার উপর করের চাপ কিছুটা কমানো। অর্থ আইন, ২০২৬ এ হার ১৫% থেকে ১০% এবং সর্বোচ্চ সীমা ১০ লক্ষ থেকে ৭.৫ লক্ষ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো কর ব্যয় কমানো এবং উচ্চ আয়ের করদাতাদের রেয়াত সীমিত করা। “ক” থেকে করমুক্ত, কম হারের, ফার্মের শেয়ার আর চূড়ান্ত করদায়ের আয় বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো যে আয়ে পূর্ণ হারে কর হচ্ছে না, তার উপর ভিত্তি করে বাড়তি রেয়াত না দেওয়া।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
রেয়াত যাচাইয়ে দেখা হয়: বিনিয়োগটি ষষ্ঠ তফসিল অংশ ৩ এর তালিকাভুক্ত কিনা, সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষেই করা কিনা, তফসিলের নিজস্ব সীমা ও শর্ত মানা হয়েছে কিনা, আর প্রমাণপত্র (সনদ, ব্যাংক বিবরণী, প্রিমিয়াম রসিদ) আছে কিনা। একই বিনিয়োগ দুই বছরে দেখানো হলে ধরা পড়ে।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
“ক” এর হিসাব বিরোধের সাধারণ জায়গা: কোন আয় “হ্রাসকৃত করহার” বা “চূড়ান্ত করদায়” এর আওতায়, তা প্রতিটি আয়ের প্রযোজ্য বিধান ধরে ঠিক করতে হয়। রেয়াত যোগ্য করদাতা শুধু নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি আর অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি, অন্য অনিবাসী নন।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
হিসাবের ক্রম: প্রথমে মোট আয় আর রেয়াতযোগ্য আয় (ক) আলাদা করুন। তারপর মোট আয়ের উপর কর হিসাব করুন (নির্দিষ্ট হারের আয়সহ)। এরপর তিন নিয়মের সর্বনিম্ন রেয়াত বাদ দিন। শেষে উৎসে ও অগ্রিম কর সমন্বয় করুন। ন্যূনতম করের বিধান প্রযোজ্য হলে তা আলাদাভাবে যাচাই করুন।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
সর্বোত্তম বিনিয়োগ = রেয়াতযোগ্য আয়ের ৩০% (কারণ ৩% ÷ ১০% = ৩০%), সর্বোচ্চ ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এর বেশি বিনিয়োগ রেয়াত বাড়ায় না, তাই সেই টাকার জন্য ফলন ও তারল্য ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন। পরিবারের সদস্যদের আলাদা রিটার্ন থাকলে প্রত্যেকের নিজস্ব রেয়াত সীমা আছে।
রেয়াতযোগ্য আয় (ক) কীভাবে বের করবেন
- ১জনাব মাহবুবের মোট আয় ৩০,০০,০০০ টাকা। এর মধ্যে ফার্মের শেয়ার আয় ৪,০০,০০০ টাকা, আর চূড়ান্ত করদায়ের আওতার একটি আয় ২,০০,০০০ টাকা।
- ২রেয়াতযোগ্য আয় (ক) = ৩০,০০,০০০ − ৪,০০,০০০ − ২,০০,০০০ = ২৪,০০,০০০ টাকা।
- ৩নিয়ম ১: ২৪,০০,০০০ × ৩% = ৭২,০০০ টাকা। এটাই তার সর্বোচ্চ সম্ভাব্য রেয়াত।
- ৪এই রেয়াত পুরো পেতে বিনিয়োগ লাগবে ৭২,০০০ ÷ ১০% = ৭,২০,০০০ টাকা।
সাধারণ ভুল
- মোট আয়ের ৩% ধরে রেয়াত হিসাব করা, “ক” থেকে বাদ দেওয়ার আয়গুলো না বাদ দিয়ে।
- পুরোনো ১৫% বা ১০ লক্ষ নিয়মে হিসাব করা।
- আগের বছরে কেনা সঞ্চয়পত্র এ বছরের বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো।
- কোম্পানি বা ফার্মের নামে বিনিয়োগ ব্যক্তিগত রেয়াতে দাবি করা।
করণীয় চেকলিস্ট
- রেয়াতযোগ্য আয় (ক) আলাদা করে হিসাব করুন।
- আয়ের ৩% আর বিনিয়োগের ১০% তুলনা করুন, ৭.৫ লক্ষ সীমা মাথায় রাখুন।
- ষষ্ঠ তফসিল অংশ ৩ এর চলতি তালিকা ও প্রতিটি খাতের নিজস্ব সীমা মিলিয়ে নিন।
- প্রতিটি বিনিয়োগের সনদ বা রসিদ রিটার্নের সাথে রাখুন।
প্রশ্নোত্তর
প্রবাসী বাংলাদেশি কি রেয়াত পাবেন?
হ্যাঁ, ধারা ৭৮ নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তির পাশাপাশি অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তিকেও রেয়াতের যোগ্য রেখেছে, ষষ্ঠ তফসিল অংশ ৩ এর শর্ত মেনে।
রেয়াত কি আয় থেকে বাদ যায় নাকি কর থেকে?
কর থেকে। আগে মোট আয়ের উপর কর হিসাব হয়, তারপর সেই কর থেকে রেয়াতের অঙ্ক বাদ যায়।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
