অংশ ৯: রিটার্ন, বিবরণী এবং দলিলাদি · প্রথম অধ্যায়: রিটার্ন এবং বিবরণী
ধারা ১৭৬ — অসম্পূর্ণ রিটার্ন দাখিলের ফলাফল
Income Tax Act, 2023 · Section 176
আইনের মূল পাঠ
১৭৬। (১) কোনো রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে ধারা ১৬৯ এর বিধান বা বোর্ড কর্তৃক জারীকৃত কোনো নির্দেশনা অনুসরণ না করিলে উক্ত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন অসম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(২) রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্নটি অসম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচনা করা হইলে, উপকর কমিশনার, কারণ উল্লেখপূর্বক, করদাতার নিকট সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি, যাচাইকরণ, বিবৃতি বা দলিলাদি নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দাখিল করিবার জন্য নোটিশ প্রেরণ করিবেন।
১[(৩) কোনো করদাতা উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করিতে ব্যর্থ হইলে, রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন, যাহা অসম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইয়াছিল তাহা-
(ক) ধারা ২[১৬৭ এর উপ-ধারা (৭), ধারা ১৬৮ এর উপ-ধারা (২) বা] ১৬৯ এর উপ-ধারা (২) এবং (৫) পরিপালনের ব্যর্থতায় এইরূপভাবে বাতিল বা অকার্যকর বলিয়া বিবেচনা করা হইবে যেন উহা দাখিল করা হয় নাই এবং এইরূপ বাতিল বা অকার্যকরের ক্ষেত্রে উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করিবেন, যথা:-
(অ) দাখিলকৃত রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকরের নোটিশ করদাতার বরাবরে প্রেরণ;
(আ) পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বাতিল বা অকার্যকর সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিতকরণ;
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে ধারা ১৮২ এর অডিটের জন্য নির্বাচন করা যাইবে।]
(৪) কোনো করদাতা উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করিলে রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন তাহা দাখিলের তারিখে সম্পূর্ণ হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।
৩[(৫) কোনো করদাতা উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না করিলে তাহার দাখিলকৃত রিটার্নটি বাতিল বা অকার্যকর বলিয়া গণ্য করিয়া উপকর কমিশনার ধারা ১৭২ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের জন্য, এই ধারায় অথবা করবৎসর অতিক্রান্ত হইলে ধারা ২১২ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ জারি করিবেন।]
৪[(৬) কেবল প্রাপ্তি স্বীকারের কারণে কোনো রিটার্ন সম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইবে না।]
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৪–২৫উপ-ধারা (৩) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ৬৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ২২০২৬–২৭“১৬৭ এর উপ-ধারা (৭), ধারা ১৬৮ এর উপ-ধারা (২) বা” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি, কমা ও বন্ধনীগুলি “ধারা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১০৪(ক) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩২০২৬–২৭উপ-ধারা (৫) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১০৪(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪২০২৬–২৭উপ-ধারা (৬) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১০৪(গ) ধারাবলে সংযোজিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
ধারা ১৬৯ বা NBR এর নির্দেশনা না মেনে দেওয়া রিটার্ন অসম্পূর্ণ। উপকর কমিশনার নোটিশ দিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে বলবেন। পূরণ করলে রিটার্ন মূল জমার তারিখেই সম্পূর্ণ গণ্য। না করলে রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকর হতে পারে, বা অডিটে যেতে পারে। শুধু প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ পেলেই রিটার্ন সম্পূর্ণ নয়।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১): রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্নে ধারা ১৬৯ (ফরম, সংযুক্তি, স্বাক্ষর ইত্যাদি) বা NBR এর কোনো নির্দেশনা না মানলে তা অসম্পূর্ণ।
- ২উপ-ধারা (২): উপকর কমিশনার কারণ উল্লেখ করে নোটিশ দেবেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য, যাচাই, বিবৃতি বা দলিল জমা দিতে।
- ৩উপ-ধারা (৩)(ক), বাতিল বা অকার্যকর: ধারা ১৬৭(৭) (সম্পদ বিবরণী), ধারা ১৬৮(২) (খরচের বিবরণী), বা ধারা ১৬৯ এর উপ-ধারা (২) (নিরীক্ষিত হিসাবের সংযুক্তি) ও (৫) (স্বাক্ষর) না মানার কারণে অসম্পূর্ণ হলে, আর নোটিশও পুরোপুরি না মানলে, রিটার্নটি এমনভাবে বাতিল গণ্য হবে যেন দাখিলই করা হয়নি। উপকর কমিশনার করদাতাকে বাতিলের নোটিশ দেবেন আর পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারকে লিখিতভাবে জানাবেন।
- ৪উপ-ধারা (৩)(খ): অন্য কারণে অসম্পূর্ণ হলে রিটার্নটি ধারা ১৮২ এর অডিটের জন্য নির্বাচিত হতে পারে।
- ৫উপ-ধারা (৪): নোটিশের সব চাহিদা পূরণ করলে রিটার্ন মূল দাখিলের তারিখেই সম্পূর্ণ গণ্য হবে। অর্থাৎ সময়মতো দেওয়া রিটার্নের সুবিধা হারাবেন না।
- ৬উপ-ধারা (৫): নোটিশ পুরোপুরি না মানলে রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকর গণ্য করে উপকর কমিশনার ধারা ১৭২ অনুযায়ী নতুন রিটার্নের নোটিশ দেবেন, বা করবছর শেষ হয়ে গেলে ধারা ২১২(১) এর নোটিশ।
- ৭উপ-ধারা (৬): শুধু প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ পেলেই রিটার্ন সম্পূর্ণ বিবেচিত হবে না।
- ৮ব্যবহারিক মানে: বাতিল রিটার্ন মানে দাখিল হয়নি। তখন নোটিশের পরের রিটার্নে ধারা ১৭৪(৩) এর বেশি অতিরিক্ত কর আর অব্যাহতি হারানোর ঝুঁকি আসতে পারে।
মনে রাখুন
- ধারা ১৬৯ বা NBR নির্দেশনা না মানলে রিটার্ন অসম্পূর্ণ।
- নোটিশ মেনে ঘাটতি পূরণ করলে মূল তারিখেই সম্পূর্ণ।
- সম্পদ বিবরণী, খরচের বিবরণী, নিরীক্ষিত হিসাবের সংযুক্তি বা স্বাক্ষরের ঘাটতি ঠিক না করলে রিটার্ন বাতিল।
- অন্য ঘাটতিতে অডিটে নির্বাচন হতে পারে।
- প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ = সম্পূর্ণ রিটার্নের প্রমাণ নয়।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ৭৪ · পৃষ্ঠা ১০৩–১০৪- উপ-ধারা (৩) এর দফা (ক) তে যোগ “১৬৭ এর উপ-ধারা (৭), ধারা ১৬৮ এর উপ-ধারা (২) বা”: পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী বা জীবনযাপন ব্যয় বিবরণীর নোটিশ না মানলে, অথবা ধারা ১৬৯(২) ও (৫) না মানলে, দাখিল করা রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল হয়নি গণ্য — বাতিল বা অকার্যকর।
- উপ-ধারা (৫) প্রতিস্থাপন: ধারা ১৭৬(২) এর নোটিশের বিষয়বস্তু পুরোপুরি না মানলে উপকর কমিশনার রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকর গণ্য করতে পারবেন।
- বাতিলের পর চলতি করবর্ষে ধারা ১৭৬ এর নোটিশ দিলে করদাতা ধারা ১৭২ এ রিটার্ন দেবেন; করবর্ষ পার হলে ধারা ২১২(১) এর নোটিশে ধারা ১৭২ এ রিটার্ন।
- সংশোধিত বিধান ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে প্রযোজ্য।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ ১: সম্পদ বিবরণী ছাড়া রিটার্ন
- ১মিজান ডিসেম্বরে রিটার্ন দিলেন, কিন্তু গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সম্পদ বিবরণী দেননি। উপকর কমিশনার ধারা ১৬৭(৭) অনুযায়ী তা চেয়ে নোটিশ দিলেন।
- ২মিজান নোটিশের সময়ের মধ্যে বিবরণী দিলে রিটার্ন ডিসেম্বরের তারিখেই সম্পূর্ণ গণ্য, কোনো অতিরিক্ত কর নেই।
- ৩না দিলে রিটার্ন বাতিল, যেন দেওয়াই হয়নি। তারপর নতুন নোটিশে রিটার্ন দিতে হবে, আর করবছর পার হয়ে গেলে ধারা ১৭৪(৩) এর ১৫% বা ১০,০০০ টাকা অতিরিক্ত করের ঝুঁকি।
উদাহরণ ২: কোম্পানির রিটার্নে স্বাক্ষর নেই
- ১একটি কোম্পানির রিটার্নে মুখ্য কর্মকর্তার বদলে একজন হিসাবরক্ষক স্বাক্ষর করেছেন। এটা ধারা ১৬৯(৫) এর লঙ্ঘন।
- ২নোটিশের পরেও সঠিক স্বাক্ষরসহ রিটার্ন না দিলে উপ-ধারা (৩)(ক) অনুযায়ী রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকর হতে পারে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ পেয়ে নিশ্চিন্ত হবেন না। রিটার্ন জমার পরের কয়েক মাস কর অফিস বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে কোনো নোটিশ এসেছে কিনা নিয়মিত দেখুন, আর নোটিশ এলে সময়ের মধ্যে পুরোপুরি জবাব দিন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৪: উপ-ধারা (৩) নতুন করে লেখা (বাতিল বা অডিট)। অর্থ আইন, ২০২৬: বাতিলের কারণের তালিকায় ধারা ১৬৭(৭) ও ১৬৮(২) যোগ, উপ-ধারা (৫) নতুন করে লেখা, আর নতুন উপ-ধারা (৬) (শুধু প্রাপ্তি স্বীকারে রিটার্ন সম্পূর্ণ নয়)।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
রিটার্নের গুণমান নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া: প্রথমে সংশোধনের সুযোগ (নোটিশ), তারপর পরিণতি। মৌলিক ঘাটতি (সম্পদ বা খরচের বিবরণী, নিরীক্ষিত হিসাব, স্বাক্ষর) ঠিক না করলে রিটার্ন বাতিল, কারণ এগুলো ছাড়া রিটার্নের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কম গুরুতর ঘাটতিতে অডিট। উপ-ধারা (৬) একটি সাধারণ ভুল ধারণা দূর করে: রসিদ পাওয়া মানে রিটার্ন গৃহীত ও সম্পূর্ণ নয়।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
বাতিলের ক্ষেত্রে দুটি আনুষ্ঠানিকতা বাধ্যতামূলক: করদাতাকে বাতিলের নোটিশ আর পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারকে লিখিত অবহিতকরণ। এরপর ধারা ১৭২ বা ২১২(১) এর নোটিশ।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
উপ-ধারা (২) এর নোটিশে কারণ উল্লেখ বাধ্যতামূলক। কারণহীন বা অস্পষ্ট নোটিশের ভিত্তিতে বাতিল চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে। উপ-ধারা (৪) এর সুবিধা (মূল তারিখ বহাল) পেতে নোটিশের “সম্পূর্ণ” পরিপালন দরকার, আংশিক নয়।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
নোটিশের প্রতিটি চাহিদার বিপরীতে একটি পয়েন্ট-বাই-পয়েন্ট জবাব আর সংযুক্তির সূচি দিন, আর জমার প্রমাণ রাখুন। সময় কম হলে লিখিতভাবে সময় বৃদ্ধির আবেদন করুন।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
বাতিলের সবচেয়ে বড় আর্থিক ঝুঁকি হলো রিটার্ন “দাখিল হয়নি” গণ্য হওয়া: তখন সময়মতো দাখিলের সুবিধা, প্রণোদনা আর অব্যাহতি (ধারা ১৭৪(৪)) হারানোর ঝুঁকি। তাই নোটিশের জবাবকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন।
সাধারণ ভুল
- রসিদ পেয়ে রিটার্ন সম্পূর্ণ ধরে নেওয়া।
- নোটিশের আংশিক জবাব দেওয়া।
- নোটিশের সময়সীমা পার করা।
করণীয় চেকলিস্ট
- নোটিশে কোন ঘাটতি উল্লেখ আছে তা চিহ্নিত করুন।
- প্রতিটি ঘাটতির কাগজ জোগাড় করুন।
- সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ জবাব দিন ও প্রমাণ রাখুন।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
