অংশ ৯: রিটার্ন, বিবরণী এবং দলিলাদি · প্রথম অধ্যায়: রিটার্ন এবং বিবরণী
ধারা ১৭৪ — বিলম্ব রিটার্ন, ইত্যাদি
Income Tax Act, 2023 · Section 174
আইনের মূল পাঠ
১[১৭৪। (১) ধারা ১৬৬ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের আইনানুগ বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধারা ১৭০ এ উল্লিখিত রিটার্ন দাখিলের সময় অতিক্রান্ত হইবার পর করদাতা কর্তৃক স্বপ্রণোদিতভাবে দাখিলকৃত যেকোনো রিটার্ন, অথবা করবৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে ধারা ২১২ এর উপ-ধারা (৪) এর দফা (ক) এর ক্ষেত্রে ধারা ২১২ এর উপ-ধারা (১) অনুসারে নোটিশ জারির প্রেক্ষিতে করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত রিটার্ন “বিলম্ব রিটার্ন” হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) ধারা ১৭০ এ উল্লিখিত রিটার্ন দাখিলের সময় অতিক্রান্ত হইবার পর, করদাতা স্বপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব রিটার্ন দাখিলকালে, ধারা ১৭৩ অনুযায়ী কর পরিশোধ করিবেন এবং অতিরিক্ত কর হিসাবে পরিশোধযোগ্য করের ১০% (দশ শতাংশ) অথবা ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা, যাহা অধিক সেই পরিমাণ কর প্রদান করিবেন।
(৩) করবৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, ধারা ২১২ এর উপ-ধারা (৪) এর দফা (ক) এর ক্ষেত্রে, ধারা ২১২ এর উপ-ধারা (১) অনুসারে নোটিশ জারির প্রেক্ষিতে, করদাতা বিলম্ব রিটার্ন দাখিলকালে, ধারা ১৭৩ অনুযায়ী কর পরিশোধ করিবেন এবং অতিরিক্ত কর হিসাবে পরিশোধযোগ্য করের ১৫% (পনেরো শতাংশ) অথবা ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা, যাহা অধিক, সেই পরিমাণ কর প্রদান করিবে।
(৪) ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা (১), (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (১৭) ও (৩৫) এ উল্লিখিত আয় এবং চাকরি হইতে আয় পরিগণনায় কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়ের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার আয়ের ক্ষেত্রে, কর অব্যাহতি প্রযোজ্য না হইলে যেইরূপে কর পরিগণনা করা হইত, সেইরূপে কর পরিগণনাপূর্বক কর পরিশোধ করিতে হইবে।]
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
করবছরের সময়সীমা (ধারা ১৭০) পার হওয়ার পর দেওয়া রিটার্ন “বিলম্ব রিটার্ন”। নিজে থেকে দিলে অতিরিক্ত কর পরিশোধযোগ্য করের ১০% বা ৫,০০০ টাকা, যেটা বেশি। ধারা ২১২ এর নোটিশ পাওয়ার পর দিলে ১৫% বা ১০,০০০ টাকা, যেটা বেশি। আর বিলম্ব রিটার্নে অধিকাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা পাওয়া যাবে না।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১), বিলম্ব রিটার্ন কী: রিটার্ন দিতে বাধ্য কেউ (ধারা ১৬৬) ধারা ১৭০ এর সময় পার হওয়ার পর নিজে থেকে রিটার্ন দিলে, অথবা করবছর শেষ হওয়ার পর ধারা ২১২(১) এর নোটিশের প্রেক্ষিতে রিটার্ন দিলে, সেটা বিলম্ব রিটার্ন।
- ২উপ-ধারা (২), নিজে থেকে দেরিতে দিলে: ধারা ১৭৩ এর কর দিন, আর অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধযোগ্য করের ১০% বা ৫,০০০ টাকা, যেটা বেশি।
- ৩উপ-ধারা (৩), নোটিশের পরে দিলে: ধারা ১৭৩ এর কর, আর অতিরিক্ত কর পরিশোধযোগ্য করের ১৫% বা ১০,০০০ টাকা, যেটা বেশি। অর্থাৎ নোটিশের অপেক্ষা করলে খরচ বাড়ে।
- ৪উপ-ধারা (৪), অব্যাহতি হারানো: বিলম্ব রিটার্নে কর হিসাব করতে হবে এমনভাবে যেন কর অব্যাহতি নেই। ব্যতিক্রম শুধু ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর কয়েকটি নির্দিষ্ট দফার আয় (দফা ১, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ১৭ ও ৩৫) আর চাকরির আয় পরিগণনায় অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়। কোন দফায় কোন আয়, তা ষষ্ঠ তফসিলে দেখে নিন।
- ৫ব্যক্তি করদাতার জন্য এর মানে: করবছরের শেষ দিন (৩০ জুন) পর্যন্ত ধারা ১৭০ এর সারণি চলে। তার পরে দিলে এই ধারা।
মনে রাখুন
- সময়সীমার পরে নিজে থেকে: ১০% বা ৫,০০০ টাকা, যেটা বেশি।
- ধারা ২১২ এর নোটিশের পরে: ১৫% বা ১০,০০০ টাকা, যেটা বেশি।
- বিলম্ব রিটার্নে বেশিরভাগ কর অব্যাহতি বাদ (নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ৭২ · পৃষ্ঠা ১০০–১০২- ধারা ১৭৪ উপান্তটীকাসহ প্রতিস্থাপন — “বিলম্ব রিটার্ন”: ধারা ১৬৬ এ বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও ধারা ১৭০ এর সময়ে না দিয়ে পরে দাখিল করা রিটার্ন।
- (ক) স্বপ্রণোদিত বিলম্ব রিটার্ন: করবছর পার হওয়ার পর এবং উপকর কমিশনার কর নির্ধারণ করার আগে করদাতা নিজে দাখিল করেন। (খ) নোটিশের প্রেক্ষিতে বিলম্ব রিটার্ন: সময়ে না দিলে এবং কর নির্ধারণ না হলে, করবর্ষ পার হওয়ার পর ধারা ২১২(১) এর নোটিশে দাখিল।
- অতিরিক্ত কর (ধারা ১৭৩ এর করের সাথে): (ক) স্বপ্রণোদিত — পরিশোধযোগ্য করের ১০% অথবা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি; (খ) নোটিশের প্রেক্ষিতে — ১৫% অথবা ১০,০০০ টাকা, যেটি বেশি।
- বিলম্ব রিটার্নে ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা (১), (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (১৭), (৩৫) এর আয় ও চাকরির আয়ের অব্যাহতি ছাড়া অন্য কোনো আয়ে কর অব্যাহতি মিলবে না — অব্যাহতি না থাকলে যেভাবে কর হতো সেভাবে দিতে হবে। তবে ধারা ৭৮ এর কর রেয়াত পাবেন।
- সংশোধিত বিধান ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে প্রযোজ্য।
উদাহরণ ৩৩ — স্বপ্রণোদিত বিলম্ব রিটার্ন
- ১জনাব অনুপ হক ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্ন সময়ে দেননি; ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্বপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব রিটার্ন দেন। ব্যবসা হতে আয় ৬,০০,০০০, কৃষি আয় ৩,০০,০০০ (মোট ৯,০০,০০০); উৎসে কর ৫,০০০; ডিপিএসে বিনিয়োগ ২,০০,০০০।
- ২পরিগণনাকৃত আয়কর (২০২৫-২৬ এর হারে) ৫২,৫০০ − বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত ২৭,০০০ − উৎসে কর ৫,০০০ = পরিশোধযোগ্য ২০,৫০০ টাকা।
- ৩ধারা ১৭৪(২) অনুযায়ী অতিরিক্ত কর = ২০,৫০০ এর ১০% = ২,০৫০ অথবা ৫,০০০ — যেটি বেশি = ৫,০০০ টাকা।
- ৪মোট পরিশোধ = ২০,৫০০ + ৫,০০০ = ২৫,৫০০ টাকা।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ ১: নিজে থেকে বনাম নোটিশের পরে
- ১পরিশোধযোগ্য কর ১,৫০,০০০ টাকা। করবছর শেষ হওয়ার পর নিজে থেকে দিলে: ১০% = ১৫,০০০, যা ৫,০০০ এর চেয়ে বেশি, তাই অতিরিক্ত কর ১৫,০০০ টাকা।
- ২নোটিশের পরে দিলে: ১৫% = ২২,৫০০, যা ১০,০০০ এর চেয়ে বেশি, তাই অতিরিক্ত কর ২২,৫০০ টাকা।
- ৩নোটিশের অপেক্ষা করায় বাড়তি খরচ ৭,৫০০ টাকা।
উদাহরণ ২: ছোট কর, বড় ন্যূনতম অঙ্ক
- ১পরিশোধযোগ্য কর মাত্র ১২,০০০ টাকা। নিজে থেকে দেরিতে দিলে ১০% = ১,২০০, কিন্তু ৫,০০০ টাকা বেশি, তাই অতিরিক্ত কর ৫,০০০ টাকা।
- ২নোটিশের পরে দিলে ১৫% = ১,৮০০, কিন্তু ১০,০০০ টাকা বেশি, তাই অতিরিক্ত কর ১০,০০০ টাকা, যা মূল করের প্রায় সমান।
উদাহরণ ৩: অব্যাহতি হারানো
- ১একজন করদাতার এমন একটি আয় আছে যা সময়মতো রিটার্ন দিলে ষষ্ঠ তফসিলের অন্য কোনো দফায় করমুক্ত থাকত (উপ-ধারা ৪ এর ব্যতিক্রম তালিকার বাইরে)।
- ২বিলম্ব রিটার্নে সেই আয়ের উপরও সাধারণ হারে কর হিসাব করতে হবে, যেন অব্যাহতি নেই। ফলে অতিরিক্ত কর ছাড়াও মূল কর বেড়ে যাবে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
করবছর শেষ হওয়ার আগে (৩০ জুন) যেভাবেই হোক রিটার্ন দিন। দেরি হয়ে গেলে নোটিশের অপেক্ষা না করে নিজে থেকে দিন, অতিরিক্ত কর অনেক কম।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
পুরো ধারা ১৭৪ অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে নতুন করে লেখা (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)। নিজে থেকে দেরিতে দিলে ১০% বা ৫,০০০, নোটিশের পরে ১৫% বা ১০,০০০, আর বিলম্ব রিটার্নে অব্যাহতি হারানোর বিধান।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
বিলম্বের পরিণতি দুই স্তরে ভাগ করা হয়েছে: নিজে থেকে এলে কম (১০% বা ৫,০০০), নোটিশের পরে এলে বেশি (১৫% বা ১০,০০০)। এতে স্বেচ্ছা পরিপালনকে উৎসাহ দেওয়া হয়। উপ-ধারা (৪) এর অব্যাহতি হারানোর বিধান ধারা ৭৬ এর নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: সময়মতো রিটার্ন না দিলে করছাড়ের সুবিধা নেই, শুধু মৌলিক কিছু অব্যাহতি (নির্দিষ্ট দফা আর চাকরির আয়ের অব্যাহতি) সুরক্ষিত।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
বিলম্ব রিটার্নে করমুক্ত আয়ের দাবি থাকলে দেখা হয় তা উপ-ধারা (৪) এর ব্যতিক্রম তালিকায় আছে কিনা। না থাকলে অব্যাহতি বাদ দিয়ে কর পুনঃহিসাব।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
উপ-ধারা (১) দুই ধরনের বিলম্ব রিটার্ন সংজ্ঞায়িত করে, আর অতিরিক্ত করের হার নির্ভর করে কোনটি তার উপর। নোটিশ জারির তারিখ আর রিটার্ন জমার তারিখের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। ধারা ১৭৬(৫) অনুযায়ী বাতিল রিটার্নের পর নোটিশে দেওয়া রিটার্নও এই কাঠামোয় পড়তে পারে।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
করবছর পার হয়ে গেলে প্রতিটি দিনের দেরি ঝুঁকি বাড়ায়, কারণ নোটিশ এলে অতিরিক্ত কর ৫০% বেড়ে যায়। দ্রুত নিজে থেকে দিন, আর অব্যাহতি হারানোর আর্থিক প্রভাব আগে হিসাব করে নিন।
জটিল উদাহরণ: অব্যাহতি হারানো + অতিরিক্ত কর
- ১একজন করদাতার সাধারণ করযোগ্য আয়ের পাশাপাশি এমন একটি আয় আছে যা ষষ্ঠ তফসিলের ব্যতিক্রম তালিকার বাইরের কোনো দফায় করমুক্ত। সময়মতো দিলে পরিশোধযোগ্য কর হতো ৫০,০০০ টাকা।
- ২বিলম্ব রিটার্নে অব্যাহতি বাদ যাওয়ায় ধরা যাক পরিশোধযোগ্য কর হলো ৮০,০০০ টাকা।
- ৩নিজে থেকে দিলে অতিরিক্ত কর ১০% = ৮,০০০ টাকা (৫,০০০ এর চেয়ে বেশি)। মোট ৮৮,০০০ টাকা, সময়মতো দেওয়ার চেয়ে ৩৮,০০০ টাকা বেশি।
সাধারণ ভুল
- বিলম্ব রিটার্নে আগের মতো সব অব্যাহতি দাবি করা।
- নোটিশের অপেক্ষা করা, ফলে হার ১০% থেকে ১৫%।
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
