অংশ ২০: রিভিশন, আপিল ও রেফারেন্স · দ্বিতীয় অধ্যায়: আপিল এবং রেফারেন্স
ধারা ২৯১ — আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল
Income Tax Act, 2023 · Section 291
আইনের মূল পাঠ
২৯১। (১) যদি কোনো করদাতা ধারা ২৭২ অথবা ২৮৯ এর অধীন, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক জারীকৃত আদেশে সংক্ষুদ্ধ হন, তাহা হইলে তিনি আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করিতে পারিবেন।
(২) করদাতা, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) এর আদেশের ভিত্তিতে ধার্যকৃত কর, এবং ১[করদাতার স্বীকৃত করদায়ের মধ্যকার যে পার্থক্য হইবে, তাহার ৩% (তিন শতাংশ)], কর পরিশোধ না করিয়া থাকিলে, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আপিল দায়ের করিতে পারিবেন না।
২[***]
(৪) উপকর কমিশনার কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন গ্রহণপূর্বক ধারা ২৮৯ এর অধীন অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।
(৫) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইবে সেই আদেশ সম্পর্কে করদাতা অথবা, ক্ষেত্রমত, কমিশনারকে অবহিত করিবার পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১) অথবা উপ-ধারা ৩[(৪)] এর অধীন প্রত্যেক আপিল দাখিল করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নির্ধারিত ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে ব্যর্থ হইলেও, যদি আপিল ট্রাইব্যুনাল এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত ব্যর্থতার জন্য পর্যাপ্ত কারণ বিদ্যমান ছিল, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদপূর্তির পরও উক্ত আপিল গৃহীত হইবে।
(৬) নির্ধারিত ফরমে এবং পদ্ধতিতে প্রতিপাদনপূর্বক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করিতে হইবে এবং উপ-ধারা (২) এর ক্ষেত্র ব্যতীত, অন্যান্য ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপিল আবেদনের সহিত ১ (এক) হাজার টাকা ফি প্রদান করিতে হইবে।
(৭) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা,-
(ক) ইলেক্ট্রনিক্যালি বা অন্য কোনো যন্ত্রে পাঠযোগ্য বা কম্পিউটারে পাঠযোগ্য মাধ্যমে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রসমূহ নির্ধারণ করিতে পারিবে; এবং
(খ) উক্ত আপিল দায়ের করিবার ফরম ও পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৬–২৭“করদাতার স্বীকৃত করদায়ের মধ্যকার যে পার্থক্য হইবে, তাহার ৩% (তিন শতাংশ)” শব্দগুলি, সংখ্যা, কমা, ও চিহ্ন “স্বীকৃত করদায়ের মধ্যকার যে পার্থক্য হইবে, তাহার ১০% (দশ শতাংশ)” শব্দগুলি, সংখ্যা, কমা, ও চিহ্নের পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১৪৩(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২২০২৬–২৭উপ-ধারা (৩) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১৪৩(খ) ধারাবলে বিলুপ্ত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩২০২৬–২৭“(৪)” সংখ্যা ও বন্ধনী “(৩)” সংখ্যা ও বন্ধনীর পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১৪৩(গ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
প্রথম আপিলের (বা ধারা ২৭২ এর) আদেশের বিরুদ্ধে কর আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল: আদেশ জানার ৬০ দিনের মধ্যে। করদাতাকে আপিল কর্তৃপক্ষের আদেশে ধার্য কর আর স্বীকৃত করের পার্থক্যের ৩% আগে পরিশোধ করতে হবে (অর্থ আইন, ২০২৬ এ ১০% থেকে কমে ৩%)। উপকর কমিশনারও কমিশনারের অনুমোদনে আপিল করতে পারেন।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১): ধারা ২৭২ বা ২৮৯ এর অধীন অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) এর আদেশে সংক্ষুব্ধ করদাতা ট্রাইব্যুনালে আপিল করবেন।
- ২উপ-ধারা (২): আপিল কর্তৃপক্ষের আদেশে ধার্য কর আর স্বীকৃত করদায়ের পার্থক্যের ৩% পরিশোধ না করলে আপিল চলবে না। প্রথম আপিল দায়েরের সময় ধারা ২৮৬(৫) অনুযায়ী যে ১% কর পরিশোধ করা হয়েছে, তা এই ৩% থেকে বাদ যায়; বাকিটা পরিশোধ করলেই চলবে (NBR আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭ এর উদাহরণ)।
- ৩উপ-ধারা (৪): উপকর কমিশনার কর কমিশনারের পূর্বানুমোদনে আপিল করতে পারেন।
- ৪উপ-ধারা (৫): আদেশ জানার ৬০ দিনের মধ্যে; পর্যাপ্ত কারণে দেরি মওকুফ।
- ৫উপ-ধারা (৬) ও (৭): নির্ধারিত ফরমে প্রতিপাদনসহ, ১,০০০ টাকা ফি (ধারার ভাষায় উপ-ধারা (২) এর ক্ষেত্র ছাড়া); NBR ইলেকট্রনিক দায়েরের ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে পারে।
মনে রাখুন
- ট্রাইব্যুনালে আপিল: ৬০ দিন।
- পার্থক্যের ৩% আগে পরিশোধ (আগে ছিল ১০%)।
- প্রথম আপিলে দেওয়া ১% বাদ দিয়ে বাকিটা পরিশোধ।
- কর বিভাগও আপিল করতে পারে।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ১১৩ · পৃষ্ঠা ১২৫–১২৭- উপ-ধারা (২): ট্রাইব্যুনালে আপিলের আগে পরিশোধযোগ্য করের হার ১০% থেকে কমে ৩% — অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) এর আদেশের ভিত্তিতে ধার্যকৃত কর এবং স্বীকৃত করদায়ের পার্থক্যের ৩% না দিলে আপিল দায়ের করা যাবে না।
- উপ-ধারা (৩) বিলুপ্ত: আগে কর কমিশনার সন্তোষজনক কারণে আপিলের আগে কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা শিথিল করতে পারতেন; এখন সেই সুযোগ নেই।
- ফলে ১ জুলাই ২০২৬ বা পরে ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করলে, মামলা আগের যেকোনো করবর্ষের হলেও, নতুন বিধান অনুযায়ী ৩% পরিশোধ করেই আপিল দায়ের করতে হবে।
- হিসাব: ৩% প্রথমে পুরো পার্থক্যের উপর; তারপর প্রথম আপিল দায়েরের সময় পরিশোধিত কর (ধারা ২৮৬(৫) এর ১%) বাদ দিয়ে বাকিটা দিতে হবে (উদাহরণ ৩৫)।
- উপ-ধারা (৫) এ “উপ-ধারা (৩)” এর বদলে “উপ-ধারা (৪)” — রেফারেন্সিং বা করণিক সংশোধন।
- সংশোধিত বিধান ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য।
উদাহরণ ৩৫ — প্রথম আপিল থেকে ট্রাইব্যুনাল
- ১জনাব নাবিল রহমান: রিটার্নে আয় ৫,০০,০০০, স্বীকৃত করদায় ১০,০০০ টাকা (২০২৩-২৪ করবর্ষ)। অডিটে উপকর কমিশনার আয় নিরূপণ করেন ১৬,৫০,০০০; ধার্যকৃত কর ১,৯৫,০০০ টাকা।
- ২প্রথম আপিলে ধারা ২৮৬(৫) এর ১%: (১,৯৫,০০০ − ১০,০০০) × ১% = ১,৮৫,০০০ × ১% = ১,৮৫০ টাকা।
- ৩আপিল আদেশ অনুযায়ী আয় নিরূপিত হয় ১১,৫০,০০০; পরিগণনাকৃত কর ৯৫,০০০ টাকা।
- ৪ট্রাইব্যুনালের ৩% = (আপিল আদেশের প্রেক্ষিতে ধার্যকৃত কর − স্বীকৃত করদায়) × ৩% = (৯৫,০০০ − ১০,০০০) × ৩% = ২,৫৫০ টাকা।
- ৫আপিল দায়েরের সময় পরিশোধিত কর ১,৮৫০ টাকা; তাই ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়েরের সময় পরিশোধিতব্য = (২,৫৫০ − ১,৮৫০) = ৭০০ টাকা।
- ৬অতএব ধারা ২৯১(২) অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে ৭০০ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ — আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭ (NBR)
- ১ধারা ২৮৬ এর উদাহরণের করদাতা: স্বীকৃত করদায় ১০,০০০ টাকা; উপকর কমিশনারের ধার্যকৃত কর ১,৯৫,০০০ টাকা; প্রথম আপিল দায়েরের সময় ১% হিসেবে পরিশোধ করেছেন (১,৯৫,০০০ − ১০,০০০) × ১% = ১,৮৫০ টাকা।
- ২আপিল আদেশ অনুযায়ী আয় নিরূপিত হয় ১১,৫০,০০০ টাকা; এর প্রেক্ষিতে পরিগণনাকৃত কর ৯৫,০০০ টাকা।
- ৩ট্রাইব্যুনালে আপিলের জন্য ৩% = (আপিল আদেশের প্রেক্ষিতে ধার্যকৃত কর − স্বীকৃত করদায়) × ৩% = (৯৫,০০০ − ১০,০০০) × ৩% = ২,৫৫০ টাকা।
- ৪প্রথম আপিল দায়েরের সময় পরিশোধিত কর ১,৮৫০ টাকা বাদ: (২,৫৫০ − ১,৮৫০) = ৭০০ টাকা। অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালে আপিলের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ৭০০ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
প্রথম আপিলের আদেশ হাতে পেলেই ৬০ দিনের হিসাব শুরু করুন। ৩% থেকে প্রথম আপিলের ১% চালানের টাকা বাদ দিয়ে বাকিটা পরিশোধ করুন, আর দুই চালানের কপিই আপিলের সাথে দিন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৬: প্রাক-পরিশোধ ১০% থেকে ৩%; উপ-ধারা (৩) বিলুপ্ত; (৫) এ “(৩)” এর বদলে “(৪)”।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের খরচ কমানো (১০% থেকে ৩%), যাতে ন্যায্য বিরোধ আর্থিক বাধায় আটকে না যায়।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
উপ-ধারা (৬) এ ফি “উপ-ধারা (২) এর ক্ষেত্র ব্যতীত” লেখা, যা অস্পষ্ট; বাস্তবে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রির চর্চা অনুযায়ী ফি দিন। উপকর কমিশনারের আপিলে কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন আছে কিনা যাচাই করুন; না থাকলে আপিলের রক্ষণযোগ্যতা চ্যালেঞ্জ করা যায়।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
৩% পরিশোধ প্রাক-শর্ত মাত্র; চূড়ান্ত দায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে নির্ধারিত হবে। নগদ প্রবাহ পরিকল্পনায় বিষয়টি রাখুন।
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
