অংশ ৫: আয় পরিগণনা · তৃতীয় অধ্যায়: ভাড়া হইতে আয়
ধারা ৩৭ — মোট ভাড়ামূল্য ও ভাড়া হইতে আয় পরিগণনা
Income Tax Act, 2023 · Section 37
আইনের মূল পাঠ
১[৩৭। (১) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির স্বীয় মালিকানাধীন কোনো গৃহসম্পত্তিসহ যেকোনো সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণিত হইবে, যথা:-
অ = (আ+ই)-ঈ, যেখানে-
অ = মোট ভাড়ামূল্য,
আ = বার্ষিক মূল্য,
ই = ভাড়াটিয়া কর্তৃক পরিশোধিত যেকোনো সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন,
ঈ = শূন্যতা ভাতা যাহা কেবল বিদ্যুৎ বিল উপস্থাপন সাপেক্ষে অনুমোদনযোগ্য হইবে।
(২) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির স্বীয় মালিকানাধীন কোনো সম্পত্তির ভাড়া হইতে আয় নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণিত হইবে, যথা:-
ক= (খ+গ), যেখানে-
ক = ভাড়া হইতে আয়,
খ = মোট ভাড়ামূল্য,
গ = ধারা ৩৯ এ উল্লিখিত বিশেষ ভাড়া হইতে আয় ।]
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
মোট ভাড়ামূল্য = বার্ষিক মূল্য + ভাড়াটিয়ার দেওয়া সার্ভিস, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ − শূন্যতা ভাতা। শূন্যতা ভাতা পাওয়া যাবে শুধু বিদ্যুৎ বিল দেখিয়ে।
মনে রাখুন
- সূত্র: অ = (আ + ই) − ঈ। অ = মোট ভাড়ামূল্য, আ = বার্ষিক মূল্য, ই = ভাড়াটিয়ার দেওয়া সার্ভিস, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ, ঈ = শূন্যতা ভাতা।
- বার্ষিক মূল্য (ধারা ২ দফা ৬২): যুক্তিসঙ্গত বার্ষিক ভাড়া, অথবা প্রকৃত ভাড়া এর চেয়ে বেশি হলে প্রকৃত ভাড়া।
- শূন্যতা ভাতা: বাসা খালি থাকার সময়ের ভাড়া বাদ। এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল দেখাতে হবে।
- এরপর ধারা ৩৯ এর বিশেষ ভাড়া আয় যোগ হয়ে চূড়ান্ত ভাড়া আয় হিসাব হয়।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ১৪ · পৃষ্ঠা ৩২–৩৩- ধারা ৩৭ প্রতিস্থাপন, উপান্তটীকা এখন “মোট ভাড়ামূল্য পরিগণনা ও ভাড়া হইতে আয় পরিগণনা”।
- মোট ভাড়ামূল্য: অ = (আ + ই) − ঈ; যেখানে অ = মোট ভাড়ামূল্য, আ = বার্ষিক মূল্য, ই = ভাড়াটিয়ার পরিশোধিত যেকোনো সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ (যে নামেই হোক), ঈ = শূন্যতা ভাতা — শুধু বিদ্যুৎ বিল দেখালে অনুমোদনযোগ্য।
- ভাড়া হইতে আয়: ক = (খ + গ) এর ভিত্তিতে; খ = মোট ভাড়ামূল্য, গ = ধারা ৩৯ এর বিশেষ ভাড়া আয়। ধারা ৩৮ এর বিয়োজনগুলো খরচ হিসেবে বাদ যাবে।
- সংশোধিত বিধান ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে প্রযোজ্য।
উদাহরণ ১১ — বাণিজ্যিক ভবনের ভাড়া আয় (পুরো হিসাব)
- ১জনাব অন্তর চৌধুরী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিজস্ব বাণিজ্যিক ভবন ভাড়া দিয়েছেন: বার্ষিক মূল্য ৬০,০০,০০০; সার্ভিস চার্জ ৫,০০,০০০; ২ মাস খালি (প্রিপেইড মিটার, বিদ্যুৎ সংযোগের লেজার দাখিল); অগ্নিবীমা প্রিমিয়াম ৮০,০০০; ঋণের সুদ ৫,০০,০০০; হোল্ডিং ট্যাক্স ১,০০,০০০; সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম ৩০,০০,০০০ (বছর শেষে বাকি ২০,০০,০০০); অফেরতযোগ্য অগ্রিম ২০,০০,০০০ (চুক্তি ১০ বছর)।
- ২শূন্যতা ভাতা = (৬০,০০,০০০ ÷ ১২) × ২ = ১০,০০,০০০ টাকা। মোট ভাড়ামূল্য = (৬০,০০,০০০ + ৫,০০,০০০) − ১০,০০,০০০ = ৫৫,০০,০০০ টাকা।
- ৩বিয়োজন: সংবিধিবদ্ধ ব্যয় (মোট ভাড়ামূল্যের ৩০%) ১৬,৫০,০০০; বীমা (৮০,০০০ ÷ ১২) × ১০ = ৬৬,৬৬৭; সুদ (৫,০০,০০০ ÷ ১২) × ১০ = ৪,১৬,৬৬৭; হোল্ডিং ট্যাক্স (১,০০,০০০ ÷ ১২) × ১০ = ৮৩,৩৩৩; মোট ২২,১৬,৬৬৭ টাকা।
- ৪বিশেষ ভাড়া আয় (সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম): বছর শেষের স্থিতি ২০,০০,০০০ × ১০% = ২,০০,০০০ টাকা।
- ৫বিশেষ ভাড়া আয় (অফেরতযোগ্য অগ্রিম): আইনে সর্বোচ্চ ৫ বছরে বণ্টন, তাই ২০,০০,০০০ ÷ ৫ = ৪,০০,০০০ টাকা প্রতি বছর।
- ৬মোট বিশেষ ভাড়া আয় = ২,০০,০০০ + ৪,০০,০০০ = ৬,০০,০০০ টাকা।
- ৭ভাড়া হতে আয় = (৫৫,০০,০০০ − ২২,১৬,৬৬৭ + ৬,০০,০০০) = ৩৮,৮৩,৩৩৩ টাকা।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ: মোট ভাড়ামূল্য
- ১একটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ২৫,০০০ টাকা, অর্থাৎ বার্ষিক মূল্য ৩,০০,০০০ টাকা।
- ২ভাড়াটিয়া বছরে ৩৬,০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দেন।
- ৩ফ্ল্যাটটি ২ মাস খালি ছিল, যা বিদ্যুৎ বিলে প্রমাণিত। শূন্যতা ভাতা = ৫০,০০০ টাকা।
- ৪মোট ভাড়ামূল্য = (৩,০০,০০০ + ৩৬,০০০) − ৫০,০০০ = ২,৮৬,০০০ টাকা।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
বাসা খালি থাকলে সেই মাসগুলোর বিদ্যুৎ বিল সংরক্ষণ করুন। বিল ছাড়া শূন্যতা ভাতা পাওয়া যাবে না।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
পুরো ধারা ৩৭ অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে নতুন করে লেখা হয়েছে (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)। ভাড়াটিয়ার দেওয়া সার্ভিস চার্জ এখন মোট ভাড়ামূল্যে যোগ হয়, আর শূন্যতা ভাতার জন্য বিদ্যুৎ বিল বাধ্যতামূলক।
