অংশ ৫: আয় পরিগণনা · চতুর্থ অধ্যায়: কৃষি হইতে আয়
ধারা ৪০ — কৃষি হইতে আয়
Income Tax Act, 2023 · Section 40
আইনের মূল পাঠ
৪০। (১) কোনো ব্যক্তির কৃষি সম্পর্কিত কার্যাবলি হইতে অর্জিত আয় কৃষি হইতে আয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে।
১[(২) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াকৃত চা এবং রাবার এর মোট আয়ের ৪০% (চল্লিশ শতাংশ) ব্যবসা বা পেশা হইতে আয় এবং ৬০% (ষাট শতাংশ) কৃষি হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত হইবে।]
(৩) কৃষি অর্থে যেকোনো প্রকার উদ্যান পালন, পশু-পাখি পালন, ভূমির প্রাকৃতিক ব্যবহার, হাস-মুরগি ও মাছের খামার, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর খামার, নার্সারি, ভূমিতে বা জলে যেকোনো প্রকারের চাষাবাদ, ডিম-দুধ উৎপাদন, কাঠ, তৃণ ও গুল্ম উৎপাদন, ফল, ফুল ও মধু উৎপাদন এবং বীজ উৎপাদন অন্তর্ভুক্ত হইবে।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
কৃষিকাজ থেকে যে আয়, তা “কৃষি হইতে আয়” খাতে যাবে। আইনে “কৃষি” শব্দের অর্থ অনেক বড়: শুধু ধান চাষ নয়, মাছ, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, নার্সারি, ফল, ফুল, মধু, ডিম, দুধ, কাঠ সবই কৃষি।
মনে রাখুন
- কৃষির মধ্যে আছে: উদ্যান পালন, পশু-পাখি পালন, হাঁস-মুরগি ও মাছের খামার, সরীসৃপের খামার, নার্সারি, জমিতে বা পানিতে যেকোনো চাষ, ডিম ও দুধ উৎপাদন, কাঠ, তৃণ ও গুল্ম, ফল, ফুল, মধু ও বীজ উৎপাদন।
- চা ও রাবার নিজে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করলে মোট আয়ের ৪০% ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়, আর ৬০% কৃষি থেকে আয় ধরা হবে।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ১৬ · পৃষ্ঠা ৩৭–৩৮- উপ-ধারা (২) প্রতিস্থাপন: উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াকৃত চা ও রাবারের আয়ের খাত বিভাজন এখন “প্রাপ্তি” নয়, “অর্জিত আয়” এর ভিত্তিতে — মোট আয়ের ৪০% ব্যবসা বা পেশার আয়, ৬০% কৃষি আয়।
- সংশোধিত বিধান ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে প্রযোজ্য।
উদাহরণ ১২ — চা ও রাবারের আয় বিভাজন
- ১X টি এন্ড রাবার লিমিটেড ২০২৫-২৬ আয়বর্ষে বিক্রি করেছে ২০,০০,০০,০০০ টাকা, অর্জিত আয় ১,০০,০০,০০০ টাকা।
- ২ব্যবসা বা পেশা হতে আয় = ১,০০,০০,০০০ × ৪০% = ৪০,০০,০০০ টাকা।
- ৩কৃষি হতে আয় = ১,০০,০০,০০০ × ৬০% = ৬০,০০,০০০ টাকা।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ
- ১জনাব মালেক মাছের খামার আর একটি ছোট দুগ্ধ খামার চালান। দুটোর আয়ই কৃষি হইতে আয়।
- ২একটি চা বাগান বছরে উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত চা থেকে ১ কোটি টাকা আয় করল। এর ৪০ লক্ষ টাকা ব্যবসার আয়, আর ৬০ লক্ষ টাকা কৃষির আয় হিসেবে দেখাতে হবে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
কৃষি আয় দেখানোর সময় কী উৎপাদন করেছেন, কতটা জমিতে, আর কোথায় বিক্রি করেছেন, তার রেকর্ড রাখুন। কৃষি আয়ের নামে অন্য আয় দেখালে তা যাচাইয়ে ধরা পড়ে।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
উপ-ধারা (২) অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এখন চা ও রাবার দুটোর জন্যই ৪০:৬০ ভাগের নিয়ম (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)।
