অংশ ৫: আয় পরিগণনা · পঞ্চম অধ্যায়: ব্যবসা বা পেশা হইতে আয়
ধারা ৪৬ — ব্যবসা বা পেশা হইতে আয়ের বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ
Income Tax Act, 2023 · Section 46
আইনের মূল পাঠ
৪৬। (১) ধারা ৪৫ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ ক্ষেত্রে, ব্যবসা ১[বা পেশা] হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) করদাতার যে ব্যবসায়ের জন্য আয় পরিগণিত হইতেছে সেই ব্যবসায়ে ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ যদি কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হয়, তাহা হইলে উক্ত বিক্রয়লব্ধ আয়ের পরিমাণ হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
ক্রমিক নং | বিক্রয়লব্ধ অর্থ | আয়ের পরিমাণ |
(১) | (২) | (৩) |
১। | বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয় | ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ‘মূলধনি আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে; খ-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ‘ব্যবসা ২[বা পেশা] হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
২। | বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয় | ক-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ‘ব্যবসা ৩[বা পেশা] হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
(৩) করদাতার ব্যবসায়ে ব্যবহৃত হইবার পর কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন বা ধ্বংস হইবার কারণে কোনো বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ হিসাবে কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে তাহার পরিমাণ যদি উক্ত সম্পদের অবলোপিত মূল্যের চাইতে অধিক হয় তাহা হইলে এই ক্ষেত্রে আয়ের অঙ্ক হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
ক্রমিক নং | ৪[বিক্রয়লব্ধ অর্থ] | আয়ের পরিমাণ |
(১) | (২) | (৩) |
১। | বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয় | ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘মূলধনি আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে; খ-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘ব্যবসা ৫[বা পেশা] হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
২। | বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয় | যেইক্ষেত্রে ক>গ, সেইক্ষেত্রে ক-গ এর সমপরমিাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘ব্যবসা ৬[বা পেশা] হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে; যেইক্ষেত্রে ক<গ, সেইক্ষেত্রে গ-ক এর সমপরমিাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘ব্যবসা ৭[বা পেশা] হইতে আয়’ পরিগণনার ক্ষেত্রে ধারা ৪৯ এর অধীন ব্যয় হিসাবে অনুমোদিত হইবে। |
(৪) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণির কলাম (২) অনুসারে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এবং অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হইলে ফলাফল ব্যবসা ৮[বা পেশা] হইতে আয় খাতে ব্যয়িত বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণীতে বর্ণিত-
ক = পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ ৯[বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ],
খ = পরিসম্পদের অর্জন মূল্য, এবং
গ = তৃতীয় তফসিলের অধীন অবচয় অনুমোদনের পর পরিসম্পদের গণনাকৃত অবলোপিত মূল্য,
-কে বুঝাইবে।
(৬) যদি কোনো রপ্তানিকারক করদাতা সরকার কর্তৃক তাহার অনুকূলে বণ্টনকৃত রপ্তানি কোটার সম্পূর্ণ বা আংশিক কোনো আয়বর্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করিয়া থাকেন, তাহা হইলে এইরূপ হস্তান্তরিত কোটার আনুপাতিক রপ্তানি মূল্য উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা ১০[বা পেশা] হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
১১[(৬ক) যদি কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় কোনো ব্যক্তির নিকট প্রদেয় সুদ বা মুনাফা বাবদ কোনো খরচ বিয়োজিত হয় এবং যে আয়বর্ষে বিয়োজিত হইয়াছে তাহা শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে যদি উক্ত সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করা না হয় তাহা হইলে বর্ণিত ৩ (তিন) বৎসর সমাপ্তির পরবর্তী আয়বর্ষে উক্ত সুদ বা মুনাফার অপরিশোধিত অঙ্ক করদাতার ব্যবসা বা পেশা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, আয় হিসাবে গণ্য হইয়াছে এইরূপ কোনো সুদ বা মুনাফা যদি পরবর্তী কোনো বৎসরে পরিশোধ করা হয়, তাহা হইলে উক্ত পরিশোধ সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত অঙ্ক করদাতার আয় পরিগণনা হইতে বাদ যাইবে।]
১২[***]
(৮) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় যদি করদাতার কোনো ট্রেডিং দায় হিসাবে নেওয়া হয় এবং–
(ক) পরবর্তী কোনো আয় উক্ত আয়বর্ষে করদাতা যদি ট্রেডিং দায় বাবদ কোনো সুবিধা প্রাপ্ত হয় তাহা হইলে সেই সুবিধার অর্থমূল্য সুবিধা প্রাপ্তির আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা ১৩[বা পেশা] হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;
(খ) উক্ত ট্রেডিং দায় যেই আয়বর্ষে হিসাবে নেওয়া হইয়াছে তাহা শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে যদি ট্রেডিং দায় বা তাহার কোনো অংশ অপরিশোধিত থাকে তাহা হইলে উক্ত অপরিশোধিত ট্রেডিং দায় উক্ত ৩ (তিন) বৎসর সমাপ্তির পরবর্তী আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা ১৪[বা পেশা] হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, আয় হিসাবে গণ্য হইয়াছে এইরূপ কোনো ট্রেডিং দায় যদি পরবর্তী কোনো বৎসরে পরিশোধ করা হয় তাহা হইলে পরিশোধ সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে সেই অঙ্ক করদাতার আয় পরিগণনায় বাদ যাইবে।
(৯) যদি কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় লোকসান, কুঋণ বা কোনো খরচ বিয়োজিত হয় এবং পরবর্তী কোনো আয়বর্ষে করদাতা যদি সেই বিয়োজিত লোকসান, কুঋণ বা খরচ বাবদ কোনো সুবিধা প্রাপ্ত হন তাহা হইলে সেই সুবিধার অর্থমূল্য সুবিধা প্রাপ্তির আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা ১৫[বা পেশা] হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
১৬[(১০) ধারা ১৮০ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে যে আয়বর্ষের রিটার্ন দাখিল হইয়াছে তাহার পরবর্তী ৫ (পাঁচ) আয়বর্ষের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রদর্শিত প্রারম্ভিক মূলধনের যেকোনো পরিমাণের ঘাটতি ব্যবসা ১৭[বা পেশা] সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে “ব্যবসা ১৮[বা পেশা] হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।]
(১১) কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কুঋণ বা সন্দেহজনক ঋণ হিসাবে শ্রেণিবিন্যাসকৃত ঋণের উপর সুদ বা মুনাফা আয় যেই আয়বর্ষে ১৯[লাভ-ক্ষতি হিসাব (আয় বিবরণী) এ] ক্রেডিট প্রদান করা হইবে, অথবা যেই আয়বর্ষে প্রকৃতভাবে গৃহীত হইবে, দুইয়ের মধ্যে যাহা আগে হয় সেই আয়বর্ষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ২০[বা পেশা] হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হইবে।
২১[(১১ক) ধারা ৫২ এর উপ-ধারা (২) এর শর্তাংশ অনুযায়ী, ব্যাংক, ফাইন্যান্স ও লিজিং কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তাহার কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে, প্রদানকৃত ঋণের বিপরীতে প্রাপ্ত সুদের পরিমাণ, বার্ষিক ১২% (বারো শতাংশ) অপেক্ষা কম হইলে, যে পরিমাণে কম সুদ প্রাপ্ত হইবে, সেই পরিমাণ অঙ্ক সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির “ব্যবসা বা পেশা হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।
(১১খ) ধারা ৬৬ এর দফা (ক) এর শর্তাংশে উল্লিখিত আয় সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে “ব্যবসা বা পেশা হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।]
(১২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) বিক্রয়ের পূর্বে পরিসম্পদটি যে ব্যবসায়ে ব্যবহৃত হইয়াছে, সেই ব্যবসা পরিসম্পদ বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক পরিচালিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) করদাতার ব্যবসায় ব্যবহৃত হইবার পর কোনো পরিসম্পদ বাংলাদেশের বাহিরে রপ্তানি বা স্থানান্তরিত হইলে, উক্ত রপ্তানির বা স্থানান্তরের তারিখই পরিসম্পদ বিক্রয়ের তারিখ বলিয়া গণ্য হইবে এবং সম্পদের ২২[রপ্তানি মূল্যকে] উহা বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থ বলিয়া বিবেচনা করা হইবে।
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৬–২৭“বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(খ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২২০২৬–২৭ক্রমিক নং (১) এর বিপরীতে কলাম (৩) এ “বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(গ)(অ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩২০২৬–২৭ক্রমিক নং (২) এর বিপরীতে কলাম (৩) এ “বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(গ)(আ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪২০২৪–২৫“বিক্রয়লব্ধ অর্থ” শিরোনামটি “ক্রয়লব্ধ অর্থ” শিরোনামের পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ২৩(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ৫২০২৬–২৭ক্রমিক নং (১) এর বিপরীতে কলাম (৩) এ “বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ঘ)(অ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৬২০২৬–২৭ক্রমিক নং (২) এর বিপরীতে কলাম (৩) এ “বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ঘ)(আ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৭২০২৬–২৭ক্রমিক নং (২) এর বিপরীতে কলাম (৩) এ “বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ঘ)(আ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৮২০২৬–২৭“বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ঙ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৯২০২৪–২৫“বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ” শব্দগুলি “প্রাপ্ত অর্থ” শব্দগুলির পর অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ২৩(খ) ধারাবলে সংযোজিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ১০২০২৬–২৭“বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(চ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১১২০২৬–২৭উপ-ধারা (৬ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ছ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১২২০২৪–২৫উপ-ধারা (৭) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ২৩(গ) ধারাবলে বিলুপ্ত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ১৩২০২৬–২৭“বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(জ)(অ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১৪২০২৬–২৭“বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(জ)(আ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১৫২০২৬–২৭“বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ঝ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১৬২০২৫–২৬উপ-ধারা (১০) অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ৪৭(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ১৭২০২৬–২৭“বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ঞ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১৮২০২৬–২৭“বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ঞ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ১৯২০২৬–২৭“লাভ-ক্ষতি হিসাব (আয় বিবরণী) এ” শব্দগুলি, চিহ্ন ও বন্ধনী “লাভ ক্ষতির হিসাবে” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ট)(অ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২০২০২৬–২৭“বা পেশা” শব্দগুলি “ব্যবসা” শব্দের পর অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ট)(আ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২১২০২৬–২৭উপ-ধারা (১১ক) ও (১১খ) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৪২(ঠ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২২২০২৫–২৬“রপ্তানি মূল্যকে” শব্দগুলি “ক্রয়মূল্যকে” শব্দের পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ৪৭(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
কিছু বিশেষ প্রাপ্তিও ব্যবসার আয় হিসেবে ধরা হয়: ব্যবসার সম্পদ বিক্রির লাভ, রপ্তানি কোটা হস্তান্তর, ৩ বছরেও শোধ না করা সুদ বা ট্রেডিং দায়, আগে বাদ দেওয়া খরচ বা কুঋণ ফেরত পাওয়া, প্রারম্ভিক মূলধনের ঘাটতি, আর সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ১২% এর কম সুদে ঋণ।
মনে রাখুন
- ব্যবসার সম্পদ বিক্রি (ক = বিক্রিমূল্য, খ = কেনা দাম, গ = অবলোপিত মূল্য): ক > খ হলে (ক − খ) মূলধনি আয় আর (খ − গ) ব্যবসার আয়; ক ≤ খ কিন্তু > গ হলে (ক − গ) ব্যবসার আয়; ক < গ হলে পার্থক্যটা খরচ। বিমা বা ক্ষতিপূরণ পেলেও একই নিয়ম।
- সরকারের দেওয়া রপ্তানি কোটা অন্যকে হস্তান্তর করলে, হস্তান্তরিত কোটার আনুপাতিক রপ্তানিমূল্য ব্যবসার আয়।
- খরচ হিসেবে বাদ দেওয়া সুদ বা মুনাফা ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ না করলে, ৩ বছর শেষের পরের বছরে তা আয় হয়ে যাবে। পরে পরিশোধ করলে তখন বাদ যাবে।
- হিসাবে নেওয়া ট্রেডিং দায় (যেমন সরবরাহকারীর বকেয়া) ৩ বছরে শোধ না হলে, পরের বছরে আয়। দায় মাফ পেলে সেই সুবিধাও আয়।
- আগে বাদ দেওয়া লোকসান, কুঋণ বা খরচ পরে ফেরত পেলে, ফেরতের বছরে আয়।
- ধারা ১৮০ এর অধীন রিটার্নে দেখানো প্রারম্ভিক মূলধনের ঘাটতি পরের ৫ বছরের মধ্যে ধরা পড়লে, সেই ঘাটতি ব্যবসার আয়।
- ব্যাংক, ফাইন্যান্স ও লিজিং কোম্পানি ছাড়া কেউ সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে বার্ষিক ১২% এর কম সুদে ঋণ দিলে, যতটা কম সুদ পেয়েছেন ততটা ব্যবসার আয়।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ১৯ · পৃষ্ঠা ৩৯–৪৩- নতুন উপ-ধারা (৬ক): ব্যবসার ঋণের প্রদেয় সুদ খরচ হিসেবে অনুমোদিত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ শেষের পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ না করলে, অপরিশোধিত বা কম পরিশোধিত সুদ ৩ বছর পরের আয়বর্ষে “ব্যবসা বা পেশা হইতে আয়”। পরে পরিশোধ করলে যে আয়বর্ষে পরিশোধ, সেই বছরের আয় থেকে বিয়োজন।
- নতুন উপ-ধারা (১১ক): ব্যাংক, ফাইন্যান্স ও লিজিং কোম্পানি ছাড়া, কেউ ব্যবসার জন্য ধার করা অর্থের কোনো অংশ সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিলেও ধার করা অর্থের পুরো সুদ ব্যবসায়িক ব্যয় হিসেবে অনুমোদিত। তবে সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক ১২% এর কম সুদ পেলে, যত কম পেয়েছেন তা ঐ ব্যক্তির “ব্যবসা বা পেশা হইতে আয়”।
- নতুন উপ-ধারা (১১খ): রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি জ্ঞানের ফি এবং স্পর্শাতীত সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে আয় যদি নিয়মিত ব্যবসার অংশ হিসেবে অর্জিত হয়, তা ব্যবসা বা পেশা হতে আয়।
- উপ-ধারা (১১) এ “লাভ ক্ষতির হিসাবে” এর বদলে “লাভ-ক্ষতি হিসাব (আয় বিবরণী) এ” — হিসাববিজ্ঞানের পরিভাষার সাথে মিল।
- সংশোধিত বিধান ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে প্রযোজ্য।
উদাহরণ ১৩ — অপরিশোধিত সুদ ৩ বছর পর আয়
- ১প্রতিষ্ঠান ‘ক’ ২০২৫-২৬ আয়বর্ষে IAS অনুযায়ী ১০,০০,০০০ টাকা প্রদেয় সুদ খরচ দাবি করেছে; পরিশোধ ৬,০০,০০০, বাকি ৪,০০,০০০।
- ২পুরো ১০,০০,০০০ টাকা ব্যবসার খরচ হিসেবে অনুমোদিত।
- ৩বাকি ৪,০০,০০০ টাকা পরবর্তী ৩ বছর অর্থাৎ ২০২৮-২৯ আয়বর্ষের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। না দিলে ২০২৯-৩০ আয়বর্ষ সংশ্লিষ্ট ২০৩০-৩১ করবছরে ৪,০০,০০০ টাকা ব্যবসায়িক আয় হিসেবে যোগ হবে।
- ৪২০৩০-৩১ আয়বর্ষে পরিশোধ করলে ২০৩১-৩২ করবর্ষে মোট আয় থেকে বিয়োজিত হবে।
উদাহরণ ১৪ — আগে আয়ে যোগ হওয়া সুদ পরে পরিশোধ
- ১জনাব নাসিফ চৌধুরী ২০২৩-২৪ আয়বর্ষে ২,০০,০০০ টাকা সুদ খরচ দাবি করেন কিন্তু পরিশোধ না করায় উপকর কমিশনার তা আয়ে যোগ করেন (২০২৪-২৫ করবর্ষে মোট আয় ১২,০০,০০০)।
- ২তিনি ২০২৬ সালের জুনে (২০২৫-২৬ আয়বর্ষ, সংশ্লিষ্ট করবর্ষ ২০২৬-২৭) সুদ পরিশোধ করেন।
- ৩তাই ২,০০,০০০ টাকা ২০২৬-২৭ করবর্ষে ব্যবসার আয় থেকে বিয়োজনযোগ্য। সেই বছর বিয়োজনের আগে মোট আয় ২০,০০,০০০ হলে করারোপণযোগ্য আয় = ১৮,০০,০০০ টাকা।
উদাহরণ ১৫ — সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ ও ১২% সুদ
- ১একটি কোম্পানি ব্যাংক থেকে ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ১২% হারে ১.২০ কোটি টাকা সুদ খরচ দাবি করেছে; প্রদর্শিত আয় ৫ কোটি। এই ঋণ থেকে সহযোগী ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ কে যথাক্রমে ১, ২ ও ৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
- ২পুরো ১.২০ কোটি টাকা সুদ ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে অনুমোদিত।
- ৩‘ক’ থেকে সুদ শূন্য: ১ কোটি × ১২% = ১২,০০,০০০; কম পাওয়া ১২,০০,০০০ টাকা ব্যবসা আয়।
- ৪‘খ’ থেকে ৮% হারে ১৬,০০,০০০: ২ কোটি × ১২% = ২৪,০০,০০০; কম পাওয়া (২৪,০০,০০০ − ১৬,০০,০০০) = ৮,০০,০০০ টাকা ব্যবসা আয়।
- ৫‘গ’ থেকে ১৫% হারে ৪৫,০০,০০০ — ৩৬,০০,০০০ এর বেশি, তাই প্রযোজ্য নয়।
- ৬আয় পরিগণনাপত্রে বাড়তি আয় = ১২,০০,০০০ + ৮,০০,০০০ + ০ = ২০,০০,০০০; মোট ব্যবসায়িক আয় = ৫,০০,০০,০০০ + ২০,০০,০০০ = ৫,২০,০০,০০০ টাকা রিটার্নে দেখিয়ে কর দিতে হবে।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ: অপরিশোধিত সরবরাহকারীর বিল
- ১রহমান ট্রেডার্স ২০২২–২৩ আয়বর্ষে একটি সরবরাহকারীর কাছ থেকে ৫,০০,০০০ টাকার মাল কিনে খরচ হিসেবে দেখিয়েছে, কিন্তু টাকা দেয়নি।
- ২২০২৩–২৪, ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬, এই ৩ বছরেও বিলটি শোধ হয়নি।
- ৩তাহলে ২০২৬–২৭ আয়বর্ষে এই ৫,০০,০০০ টাকা রহমান ট্রেডার্সের ব্যবসার আয় হিসেবে ধরা হবে।
- ৪পরে কোনো বছরে বিলটি শোধ করলে, সেই বছরের আয় থেকে ৫,০০,০০০ টাকা বাদ যাবে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
প্রতি বছর পুরোনো বকেয়া দায় আর সুদের তালিকা দেখুন। ৩ বছর পার হওয়ার আগেই নিষ্পত্তি করুন, অথবা আয়ে যোগ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৬ নতুন উপ-ধারা (৬ক) যোগ করেছে (৩ বছরে অপরিশোধিত সুদ আয় হবে), আর (১১ক) ও (১১খ) যোগ করেছে (সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ১২% এর কম সুদে ঋণের নিয়মসহ)। অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ প্রারম্ভিক মূলধনের ঘাটতির উপ-ধারা (১০) নতুন করে লিখেছে।
