অংশ ৭: কর পরিশোধ · প্রথম অধ্যায়: নিবাসী হইতে কর কর্তন
ধারা ১১১ — সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হইতে উৎসে কর কর্তন
Income Tax Act, 2023 · Section 111
আইনের মূল পাঠ
১১১। কোনো স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য উহার মালিককে কোনো ক্ষতিপূরণ ১[, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন,] প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় নিম্নবর্ণিত হারে কর কর্তন করিবেন,-
(ক) কোনো স্থাবর সম্পত্তি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় অবস্থিত হইলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত মোট অর্থের ৬% (ছয় শতাংশ);
(খ) কোনো স্থাবর সম্পত্তি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার বাহিরে অবস্থিত হইলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত মোট অর্থের ৩% (তিন শতাংশ)।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
সরকার বা কোনো কর্তৃপক্ষ জমি বা স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে মালিককে ক্ষতিপূরণ দিলে, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৬% আর এর বাইরে ৩% কর কাটা হবে।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১রাস্তা, সেতু বা অন্য প্রকল্পের জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে মালিক ক্ষতিপূরণ পান। এই ক্ষতিপূরণ মূলধনি আয়ের মতো (ধারা ২ দফা ৬৩ঙ এ বিক্রয়লব্ধ অর্থ হিসেবেও এটা আছে)।
- ২ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময়েই কর কেটে রাখা হয়: শহর এলাকায় (সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ক্যান্টনমেন্ট) ৬%, অন্য এলাকায় ৩%।
- ৩ক্ষতিপূরণ যে নামেই দেওয়া হোক (অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন সহায়তা ইত্যাদি), এই নিয়ম খাটবে।
মনে রাখুন
- শহর এলাকা: ৬%।
- শহরের বাইরে: ৩%।
- যে নামেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ৩৮ · পৃষ্ঠা ৬৫- “কোনো ক্ষতিপূরণ” এর পর “উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন” যোগ: স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণে দেওয়া ক্ষতিপূরণ, অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ, বন্দোবস্ত, পুনর্বাসন ভাতা, বিশেষ অনুদান বা যে নামেই হোক — সবই এই ধারায় উৎসে করের আওতায়।
- সংশোধিত বিধান ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ
- ১একটি মহাসড়ক প্রকল্পে জনাব নূরুলের গ্রামের ২০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ হলো, ক্ষতিপূরণ ৪০,০০,০০০ টাকা।
- ২জমি পৌরসভার বাইরে, তাই কর্তন ৩% = ১,২০,০০০ টাকা।
- ৩একই জমি পৌরসভা এলাকায় হলে কর্তন হতো ৬% = ২,৪০,০০০ টাকা।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৬ “উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন” যোগ করেছে, অর্থাৎ যেকোনো নামের ক্ষতিপূরণে কর্তন প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রায়ই বড় অঙ্কের, আর প্রাপকরা অনেক সময় রিটার্ন দেন না। শহর ও গ্রামের জন্য আলাদা হার (৬% ও ৩%) জমির মূল্যবৃদ্ধির পার্থক্য প্রতিফলিত করে। অর্থ আইন, ২০২৬ “যে নামেই অভিহিত” যোগ করে বাড়তি ক্ষতিপূরণ বা ভিন্ন নামে দেওয়া টাকাও আওতায় এনেছে।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
ক্ষতিপূরণ মূলধনি আয় হিসেবে রিটার্নে দেখাতে হবে (ধারা ২ দফা ৬৩(ঙ) এ বিক্রয়লব্ধ অর্থ)। উৎসে কাটা কর রিটার্নে সমন্বয়যোগ্য, আর বেশি কাটা হলে ফেরতযোগ্য (ধারা ১৬৩)।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে নতুন সম্পদ কিনলে সম্পদ বিবরণীতে উৎস হিসেবে ক্ষতিপূরণ দেখান, যেন ধারা ৬৭ এর প্রশ্ন না ওঠে।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
