অংশ ৭: কর পরিশোধ · চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ বিধানাবলি
ধারা ১৪৭ — উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ নিশ্চিতকরণ ও যাচাইকরণ
Income Tax Act, 2023 · Section 147
আইনের মূল পাঠ
১৪৭। (১) কর কমিশনার বা ১[মহাপরিচালক (পরিদর্শন) বা মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)] কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ যাচাইয়ের লক্ষ্যে বা এই অংশের বিধানাবলির প্রয়োগের উদ্দেশ্যে-
(ক) যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের-
(অ) প্রাঙ্গণ, স্থান, পণ্য, হিসাব বহি এবং যেকোনো প্রকারে বা পদ্ধতিতে রক্ষিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ডে পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন প্রবেশ করিতে পারিবে;
(আ) কম্পিউটারে রক্ষিত বা লভ্য (available) কোনো এনক্রিপ্টেড উপাত্তকে পাঠযোগ্য ও বোধগম্য বিন্যাসে (format) বা পাঠে (text) আনস্ক্র্যামবল বা রিট্রান্সফরম করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো তথ্য, কোড বা প্রযুক্তিতে প্রবেশ করিতে পারিবে;
(ই) ইলেক্ট্রনিক রেকর্ডে বা সিস্টেমে সংরক্ষিত উপাত্ত, ইমেজ বা অন্য কোনো ইনপুট এক্সট্রাক্ট (extract) করিতে পারিবে;
(ঈ) পাসওয়ার্ড ব্রেক করিয়া সিস্টেমে প্রবেশ করিতে পারিবে;
(উ) কোনো তথ্য, হিসাবের বহি, দলিলাদি, ইমেজ বা ইনপুটের কপি বা বিশ্লেষণ করিতে পারিবে;
(ঊ) হিসাব বহি ও অন্যান্য দলিলাদিতে শনাক্ত চিহ্ন বা স্ট্যাম্প ছাপ দিতে পারিবে এবং উহাদের কপি বা এক্সট্রাক্ট লইতে পারিবে;
(ঋ) যেকোনো হিসাব বহি, দলিলাদি, ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড ও সিস্টেম জব্দ করিতে এবং নিজেদের দখলে রাখিতে পারিবে;
(এ) কোনো ব্যক্তিকে কোনো কার্যকলাপ করা বা করা হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশ দিতে পারিবে;
(খ) যেইরূপ উপযুক্ত সেইরূপ বিশেষজ্ঞ, মূল্য নির্ধারক বা বাহিনী নিজেদের সহিত নিতে পারিবে।
(২) এই ধারার অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির প্রাঙ্গণে বা স্থানে প্রবেশ করিলে বা প্রবেশের অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়া ২[বা প্রবেশ করিবার পর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক)-তে উল্লিখিত কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে] কোনো প্রকার বাধা, প্রতিবন্ধকতা বা অসহযোগিতার সম্মুখীন হইলে, উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
(৩) কোনো ব্যক্তি এই ধারার বা এই আইনের এই অংশের বিধানাবলি পরিপালনে ব্যর্থ হইলে, উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধপূর্বক, বা কোনোরূপ ব্যাখ্যার অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে কর নির্ধারণ সম্পন্ন করিয়া নিরূপিত কর ও আরোপিত জরিমানা আদায় করিবেন।
৩[(৪) এই ধারার অধীন উপ-ধারা (১) এর দফা (ক)-তে উল্লিখিত কোনো কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অর্থবৎসর ও ইহার পূর্বের সর্বোচ্চ ২ (দুই) অর্থবৎসর পর্যন্ত পরিচালনা করা যাইবে।]
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৫–২৬“মহাপরিচালক (পরিদর্শন) বা মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)” শব্দগুলি ও বন্ধনীগুলি “মহাপরিচালক, কর পরিদর্শক বা মহাপরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল” শব্দগুলি ও চিহ্নগুলির পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ৮৯ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ২২০২৬–২৭“বা প্রবেশ করিবার পর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক)-তে উল্লিখিত কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে” শব্দগুলি, সংখ্যা, চিহ্ন ও বন্ধনী “যদি” শব্দের পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৮৪(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩২০২৬–২৭উপ-ধারা (৪) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৮৪(খ) ধারাবলে সংযোজিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
উৎসে কর যাচাইয়ের জন্য কর কমিশনার, মহাপরিচালক (পরিদর্শন) বা মহাপরিচালক (CIC) এর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, হিসাব ও কম্পিউটার রেকর্ড দেখা, কপি করা, এমনকি জব্দ করতে পারেন। বাধা দিলে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। এই যাচাই চলতি ও আগের ২ অর্থবছর পর্যন্ত চলতে পারে।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১ক্ষমতা অনেক বিস্তৃত: প্রাঙ্গণ, পণ্য, হিসাব বই আর যেকোনো রেকর্ডে প্রবেশ; এনক্রিপ্টেড ডেটা পাঠযোগ্য করা; ইলেকট্রনিক রেকর্ড থেকে তথ্য বের করা; পাসওয়ার্ড ভেঙে সিস্টেমে প্রবেশ; কপি ও বিশ্লেষণ; বই ও দলিলে চিহ্ন দেওয়া; জব্দ করে নিজেদের কাছে রাখা; কোনো কাজ করতে বা বন্ধ রাখতে নির্দেশ; বিশেষজ্ঞ, মূল্যায়নকারী বা বাহিনী সাথে নেওয়া।
- ২প্রবেশে বা প্রবেশের পর কাজে বাধা, প্রতিবন্ধকতা বা অসহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা।
- ৩নিয়ম না মানলে উপকর কমিশনার ব্যাখ্যা নিয়ে, বা ব্যাখ্যা না পেলে একতরফাভাবে, কর নির্ধারণ করে কর ও জরিমানা আদায় করবেন।
- ৪অর্থ আইন, ২০২৬ সীমা বেঁধে দিয়েছে: এই যাচাই সংশ্লিষ্ট অর্থবছর আর তার আগের সর্বোচ্চ ২ অর্থবছর পর্যন্ত।
মনে রাখুন
- কে যাচাই করবেন: কর কমিশনার, DG (পরিদর্শন) বা DG (CIC) এর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
- বাধা দিলে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা।
- চলতি + আগের ২ অর্থবছর।
আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী
অনুচ্ছেদ ৫৪ · পৃষ্ঠা ৭৮- উপ-ধারা (২): ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ প্রাঙ্গণে ঢোকার পর উপ-ধারা (১)(ক) এর কার্যক্রমে বাধা, প্রতিবন্ধকতা বা অসহযোগিতা পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনধিক ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করতে পারবেন।
- নতুন উপ-ধারা (৪): উপ-ধারা (১)(ক) এর কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অর্থবছর এবং পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ২ অর্থবছর পর্যন্ত চালানো যাবে।
- সংশোধিত বিধান ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।
উদাহরণ
- ১উৎসে কর যাচাই দল একটি কোম্পানিতে এসে গত দুই বছরের সরবরাহকারীর বিল, চালান আর সনদ দেখতে চাইল।
- ২কোম্পানি সহযোগিতা না করে কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড দিতে অস্বীকার করলে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, আর একতরফা কর নির্ধারণের ঝুঁকিও থাকে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
উৎসে করের সব চালান, সনদ আর রিটার্ন সাজানো ফাইলে বা সফটওয়্যারে রাখুন। যাচাই দল এলে সহযোগিতা করুন এবং কী কপি বা জব্দ করা হলো, তার তালিকা নিন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পদবি হালনাগাদ করেছে। অর্থ আইন, ২০২৬ প্রবেশের পর অসহযোগিতাকেও জরিমানার আওতায় এনেছে আর যাচাইয়ের সময়সীমা চলতি ও আগের ২ অর্থবছরে সীমিত করেছে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
উৎসে কর পরিপালন যাচাইয়ে শুধু কাগজ দেখা যথেষ্ট নয়, আধুনিক হিসাব ইলেকট্রনিক। তাই ক্ষমতা বিস্তৃত: সিস্টেমে প্রবেশ, এনক্রিপ্টেড ডেটা পড়া, জব্দ। অসহযোগিতায় ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা ক্ষমতাকে কার্যকর করে। অর্থ আইন, ২০২৬ যাচাইয়ের মেয়াদ চলতি ও আগের ২ বছরে সীমিত করে করদাতাকে অনন্তকালীন অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা দিয়েছে।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
ক্ষমতা প্রয়োগের আগে লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্তির প্রমাণ দেখতে চাওয়া আপনার অধিকার। জব্দ তালিকা স্বাক্ষরসহ নিন। ২ বছরের বেশি পুরোনো বছরের যাচাই এই ধারার সীমার বাইরে।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
উৎসে করের রেজিস্টার, চালান, সনদ আর উৎসে কর রিটার্ন এমনভাবে রাখুন যেন যেকোনো সময় দেখানো যায়। ইলেকট্রনিক রেকর্ডের ব্যাকআপ রাখুন।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
