Skip to content

অংশ ৭: কর পরিশোধ · দ্বিতীয় অধ্যায়: অনিবাসীর নিকট হইতে কর কর্তন

ধারা ১১৯ — অনিবাসীদের আয় হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ

Income Tax Act, 2023 · Section 119

আইনের মূল পাঠ

১১৯। (১) এই অধ্যায়ের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, যেইক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য যেকোনো ব্যক্তি কোনো অনিবাসীকে এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধ করেন যাহা এই আইনের অধীন উক্ত অনিবাসীর জন্য করযোগ্য, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ পরিশোধের সময় উক্ত অর্থ প্রদানকারী, যদি না তিনি নিজেই এজেন্ট হিসাবে কর পরিশোধের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন, প্রদেয় অর্থের উপর নির্ধারিত, অনধিক ৩০% (ত্রিশ শতাংশ), হারে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন।

(২) যেইক্ষেত্রে বোর্ড, এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রাপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হইয়া আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এই মর্মে সনদ প্রদান করে যে, কোনো অনিবাসীকে কর সংক্রান্ত চুক্তি বা অন্য কোনো কারণে বাংলাদেশে কোনো কর প্রদান করিতে হইবে না বা হ্রাসকৃত হারে কর প্রদান করিতে হইবে, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পরিশোধ কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর কর্তনপূর্বক করা যাইবে।

১[(৩) বাংলাদেশে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নাই এইরূপ কোনো অনিবাসী মর্যাদাভুক্ত করদাতার নিকট হইতে এই ধারার অধীন কর্তনকৃত কর, যে আয়ের উপর উক্ত কর কর্তন করা হইয়াছে, উক্ত আয়ের উপর প্রাপকের চূড়ান্ত কর বলিয়া গণ্য হইবে এবং কোনো দাবির বিপরীতে উহা সমন্বয় করা যাইবে না।

ব্যাখ্যা।-কোনো বিদেশে নিবাসী (resident in a foreign country) এর বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা প্রতিষ্ঠা ও নিবাসী বা অনিবাসী মর্যাদা নিরূপণের বিষয়সমূহ দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (Double Taxation Avoidance Agreement) এর আলোকে নির্ধারিত হইবে; যেক্ষেত্রে, কোনো করদাতা এমন কোনো দেশের নাগরিক, যাহার সহিত বাংলাদেশের দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি নাই, সেই করদাতার বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা ও নিবাসী মর্যাদা নিরূপণ হইবে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী।]

(৪) কোনো কোম্পানি শেয়ার হস্তান্তর হইতে কোনো অনিবাসী করদাতার পক্ষে মূলধনি আয় উদ্ভূত হইলে, উক্ত শেয়ার হস্তান্তর কার্যকরের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ, উক্ত মূলধনি আয়ের উপর প্রদেয় কর পরিশোধিত না হইলে, উক্ত হস্তান্তর কার্যকর করিবেন না।

(৫) এই ধারার অধীন সংগৃহীত কোনো কর নিবাসী কোনো ব্যক্তির নামে জমা হইলে এই ধারার অধীন কর সংগৃহীত হয় নাই মর্মে গণ্য হইবে।

২[***]

সংশোধনী টীকা

  1. ১২০২৬–২৭উপ-ধারা (৩) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ৭৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
  2. ২২০২৫–২৬উপ-ধারা (৬) অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ৭৫ ধারাবলে বিলুপ্ত।

সহজ ভাষায় বুঝুন

মেন্টরের নোট · Unidara Associates

কোনো অনিবাসীকে (বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি) এমন টাকা দিলে যা বাংলাদেশে তার করযোগ্য আয়, পরিশোধের সময় বিধিতে নির্ধারিত হারে কর কাটতে হবে। হার সর্বোচ্চ ৩০%। বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা না থাকলে এই কর্তনই তার চূড়ান্ত কর।

ধাপে ধাপে বুঝি

  1. ১বিদেশি সফটওয়্যার কোম্পানির লাইসেন্স ফি, বিদেশি পরামর্শকের ফি, বিদেশি ঋণদাতার সুদ, বিদেশে রয়্যালটি, এসব পরিশোধে এই ধারা।
  2. ২কে কাটবেন: নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বা পরিশোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কেউ। তবে পরিশোধকারী নিজেই যদি অনিবাসীর এজেন্ট হিসেবে কর দেওয়ার জন্য দায়ী থাকেন, তাহলে আলাদা নিয়ম।
  3. ৩হার: পরিশোধের ধরন অনুযায়ী বিধিতে নির্ধারিত, আইনে সর্বোচ্চ ৩০%।
  4. ৪দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAA) বা অন্য কারণে কম বা শূন্য কর প্রযোজ্য হলে, কাগজপত্রসহ NBR এর কাছে আবেদন করতে হয়। NBR ৩০ দিনের মধ্যে সনদ দিলে সেই হারে বা কর্তন ছাড়া পরিশোধ করা যায়।
  5. ৫বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা (PE) নেই এমন অনিবাসীর ক্ষেত্রে এই কর্তন চূড়ান্ত কর, কোনো দাবির বিপরীতে সমন্বয় হবে না। স্থায়ী স্থাপনা ও নিবাসী মর্যাদা নির্ধারণ হবে DTAA অনুযায়ী। চুক্তি না থাকা দেশের ক্ষেত্রে এই আইন অনুযায়ী।
  6. ৬অনিবাসী কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে মূলধনি আয় করলে, কর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার হস্তান্তর নিবন্ধন করা যাবে না।
  7. ৭অনিবাসীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা কর কোনো নিবাসীর নামে জমা দিলে, ধরা হবে কর সংগ্রহই হয়নি।

মনে রাখুন

  • হার বিধিতে নির্ধারিত, সর্বোচ্চ ৩০%।
  • DTAA এর সুবিধা পেতে NBR এর সনদ লাগবে (৩০ দিনে সিদ্ধান্ত)।
  • PE না থাকলে কর্তনই চূড়ান্ত কর।
  • কর না দিলে অনিবাসীর শেয়ার হস্তান্তর নিবন্ধন হবে না।
  • জমা দিতে হবে অনিবাসীর নামে।

আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭ অনুযায়ী

অনুচ্ছেদ ৪৪ · পৃষ্ঠা ৬৬–৬৭
  • উপ-ধারা (৩) প্রতিস্থাপন: বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা নেই এমন অনিবাসী করদাতার উৎসে কর্তিত কর এখন ন্যূনতম কর নয়, চূড়ান্ত কর — কোনো দাবির বিপরীতে সমন্বয় হবে না।
  • ব্যাখ্যাংশ: বিদেশে নিবাসী করদাতার স্থায়ী স্থাপনা ও নিবাসী/অনিবাসী মর্যাদা নির্ধারণে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAA) অনুসরণ; যে দেশের সাথে DTAA নেই সেখানে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী।
  • সংশোধিত বিধান ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য।

সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৬–২৭। পরিপত্রের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করা হয়েছে; উদাহরণের অঙ্ক অপরিবর্তিত।

উদাহরণ: বিদেশি সফটওয়্যার লাইসেন্স

  1. ১একটি বাংলাদেশি কোম্পানি সিঙ্গাপুরের একটি সফটওয়্যার কোম্পানিকে বছরে ২০,০০,০০০ টাকা লাইসেন্স ফি দেবে। বিদেশি কোম্পানির বাংলাদেশে কোনো অফিস নেই।
  2. ২ধরা যাক বিধিমালায় রয়্যালটি বা লাইসেন্স ফির হার ২০%। কর্তন = ৪,০০,০০০ টাকা, যা বিদেশি কোম্পানির নামে জমা হবে।
  3. ৩বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর চুক্তিতে কম হার থাকলে, আগে NBR থেকে সনদ নিয়ে সেই হারে কাটা যায়।
  4. ৪বিদেশি কোম্পানির বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা না থাকায় এই কর্তনই তার চূড়ান্ত কর।

প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ

বিদেশি পরিশোধের আগে দেখুন: আয়টি বাংলাদেশে উদ্ভূত কিনা (ধারা ২৭), প্রাপকের দেশের সাথে DTAA আছে কিনা, আর বিধিমালার হার কত। কম হারে কাটতে চাইলে পরিশোধের আগেই NBR এর সনদ নিন। ব্যাংকও বৈদেশিক পরিশোধের সময় কর পরিশোধের প্রমাণ চাইতে পারে।

সাম্প্রতিক পরিবর্তন

অর্থ আইন, ২০২৬ উপ-ধারা (৩) নতুন করে লিখে স্থায়ী স্থাপনা নেই এমন অনিবাসীর কর্তনকে চূড়ান্ত কর ঘোষণা করেছে, আর DTAA অনুযায়ী মর্যাদা নির্ধারণের ব্যাখ্যা যোগ করেছে। অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ উপ-ধারা (৬) বিলুপ্ত করেছে।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে

করবর্ষ ২০২৬–২৭ অনুযায়ী

নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন

অনিবাসীর কাছ থেকে বছর শেষে কর আদায় প্রায় অসম্ভব, কারণ তার বাংলাদেশে সম্পদ বা উপস্থিতি নেই। তাই পরিশোধের মুহূর্তেই কর কাটা একমাত্র কার্যকর পথ। অর্থ আইন, ২০২৬ স্থায়ী স্থাপনা নেই এমন অনিবাসীর কর্তনকে চূড়ান্ত কর ঘোষণা করেছে, ফলে প্রশাসন সহজ হয়েছে আর ফেরতের দাবি বন্ধ হয়েছে। DTAA এর সুবিধা NBR এর সনদের মাধ্যমে দেওয়ায় অপব্যবহার রোধ হয়।

কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে

বৈদেশিক পরিশোধের সময় ব্যাংকের মাধ্যমে কর পরিশোধের প্রমাণ যাচাই হয়। চুক্তির সুবিধা দাবি করলে NBR এর সনদ লাগবে, নিজে থেকে কম হার প্রয়োগ করলে ঘাটতি ও অতিরিক্ত দাবি করা হয়।

আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে

তিনটি প্রশ্ন: আয়টি বাংলাদেশে উদ্ভূত কিনা (ধারা ২৭); প্রাপকের দেশের সাথে DTAA আছে কিনা এবং সেখানে কোন অনুচ্ছেদে কত হার; আর প্রাপকের বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা আছে কিনা। স্থায়ী স্থাপনা থাকলে কর্তন চূড়ান্ত নয়, তখন সেই PE এর আয় রিটার্নে নির্ধারণ হবে।

হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে

প্রতিটি বৈদেশিক পরিশোধের ফাইলে রাখুন: চুক্তি, ইনভয়েস, প্রাপকের ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেট, প্রযোজ্য DTAA অনুচ্ছেদ, NBR এর সনদ (থাকলে) আর কর পরিশোধের চালান।

কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে

বিদেশি সরবরাহকারী নেট (কর ছাড়া) চুক্তি চাইলে গ্রস-আপ খরচ (ধারা ১৪১) হিসাবে ধরুন। DTAA এর কম হার পেতে পরিশোধের অনেক আগে NBR এর কাছে আবেদন করুন (৩০ দিনে সিদ্ধান্তের কথা)।

সাধারণ ভুল

  • DTAA এর হার নিজে থেকে প্রয়োগ করা, NBR এর সনদ ছাড়া।
  • কাটা কর অনিবাসীর নামে না দিয়ে পরিশোধকারীর নামে জমা দেওয়া (উপ-ধারা ৫ অনুযায়ী কর সংগৃহীত হয়নি বলে গণ্য)।
  • অনিবাসীর শেয়ার হস্তান্তর কর পরিশোধের আগে নিবন্ধন করা।

করণীয় চেকলিস্ট

  • আয় বাংলাদেশে উদ্ভূত কিনা যাচাই (ধারা ২৭)।
  • DTAA ও বিধিমালার হার তুলনা।
  • প্রয়োজনে পরিশোধের আগে NBR এর সনদ।
  • অনিবাসীর নামে জমা ও সনদ প্রদান।

এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।

Talk to us

Tell us what you need on WhatsApp or by phone. A licensed practitioner looks at your case and gives you a fixed quote before any work starts.

01317-028002info@unidaraassociates.bd

Have a deadline coming up? Let’s get it filed.

Tell us what you need. A licensed practitioner reviews your case and sends a fixed quote before any work starts.